মুন্সীগঞ্জে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর বিশেষ কার্যক্রমের আওতায় ‘কার্যকর সাক্ষরতা ও ব্যবহারিক কর্মদক্ষতা প্রশিক্ষণ’-এর উদ্বোধন করা হয়েছে। ছয় মাস মেয়াদি এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে চারটি ট্রেডে মোট ৮০ জন তরুণ-তরুণী অংশগ্রহণ করবেন।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা নুরমহল আশরাফী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বও করেন তিনি।
জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো, মুন্সীগঞ্জের পরিচালনায় এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম মুন্সীগঞ্জ আদর্শ ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, মুন্সীগঞ্জে বাস্তবায়িত হচ্ছে। অষ্টম শ্রেণি উত্তীর্ণ নয়, এমন ১৪ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ছয় মাস মেয়াদি ৩৬০ ঘণ্টার এ প্রশিক্ষণ কোর্সে চারটি ট্রেডে ২০ জন করে মোট ৮০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেবেন। ট্রেডগুলো হলো—ইলেকট্রিক্যাল ইনস্টলেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স, ফুড অ্যান্ড বেভারেজ (সার্ভিস অ্যান্ড প্রোডাকশন), টেইলারিং অ্যান্ড ড্রেস মেকিং এবং রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী প্রশিক্ষণার্থীদের নিয়মিত উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণের বিষয়গুলো যথাযথভাবে আয়ত্ত করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সদস্যদের এ ধরনের প্রশিক্ষণের সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজেদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে, মেয়েদের নিজস্ব উপার্জনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্নকারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে জব লিংকেজ সহায়তা দেওয়ার আশ্বাসও দেন জেলা প্রশাসক।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে থাকা তরুণ-তরুণীদের কার্যকর সাক্ষরতা ও ব্যবহারিক দক্ষতা বাড়বে। পাশাপাশি আত্মকর্মসংস্থান ও চাকরির সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে তাঁদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জন এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এ উদ্যোগ।
অনুষ্ঠান শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়।








