গত বুধবার (৭ অক্টোবর ২০২৬) মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার বাবুখালী ইউনিয়নের চুড়ারগাতী রাজারহাট সংলগ্ন মধুমতি নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা অদ্য সরজমিনে পরিদর্শন করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী এবং বাবুখালী ইউনিয়নের গর্বিত সূর্য সন্তান অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরীর বিশেষ দিকনির্দেশনা ও সার্বিক অনুশাসনের ভিত্তিতে এই পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
পরিদর্শনকালে সরেজমিনে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) জনাব মোঃ জাহেদুল ইসলাম। তাঁর সাথে প্রতিনিধি দলে আরও অংশ নেন মাগুরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী সন্তোষ কর্মকার। এছাড়াও স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং প্রশাসনিক প্রতিনিধিরা উক্ত পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা দল চুড়ারগাতী রাজারহাট পয়েন্টে মধুমতি নদীর ভাঙন পরিস্থিতি, তীরবর্তী এলাকার ভৌত অবকাঠামো এবং ঝুঁকির মাত্রা বিশদভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। তারা নদীর পানির প্রবাহ, পাড়ের বর্তমান অবস্থা ও নদীভাঙনের কারণে সৃষ্টি হওয়া ক্ষয়ক্ষতির রূপরেখা সরজমিনে খতিয়ে দেখেন। স্থানীয় জনপদকে মধুমতির ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করতে কারিগরি দৃষ্টিকোণ থেকে সম্ভাব্য কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীগণ বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনা পরিচালনা করেন।
পরিদর্শনস্থলে বিপুলসংখ্যক স্থানীয় এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় স্থানীয় বাসিন্দারা মধুমতি নদীর ভাঙনের ফলে তাদের ঘরবাড়ি, বাজার ও কৃষি জমির নিত্যদিনের সংকটের কথা কর্মকর্তাদের সামনে বিস্তারিত তুলে ধরেন। এলাকার সাধারণ মানুষ এই দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেতে নদী রক্ষায় দ্রুত ও স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জোর দাবি জানান।
পরিদর্শন শেষে ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জনাব মোঃ জাহেদুল ইসলাম জানান, মাননীয় সংস্কৃতি মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী ভাঙনকবলিত এলাকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক ও সংবেদনশীল। তাঁর সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা অনুযায়ী নদীর ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রাথমিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে এবং পরবর্তীতে স্থায়ী প্রতিরক্ষা কাজের অনুমোদন ও বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রীর এই প্রশংসনীয় ও সময়োপযোগী উদ্যোগ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরেজমিন পরিদর্শনের কারণে দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কে থাকা নদীপাড়ের মানুষের মনে আশার সঞ্চার হয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করছেন, এই পরিদর্শনের পর দ্রুততম সময়ের মধ্যেই নদীভাঙন রোধে দৃশ্যমান ও কার্যকর কাজ শুরু হবে।








