বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে আমির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয় (মোগলটুলী এলাকার ফারুকী হাউসে) ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দলটির মহানগরের সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের ব্যক্তিগত গাড়িও ভাঙচুর করা হয়।
দলীয় সূত্র জানায়, কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের নতুন কমিটি গঠন নিয়ে প্রায় এক মাস ধরে শীর্ষ নেতাদের মধ্যে মতবিরোধ চলছিল। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নামে-বেনামে লেখালেখিও চলছিল। এর মধ্যে আগামী ১৬ অক্টোবর আমির নির্বাচনের দিন নির্ধারণ করা হয়। দলীয় নীতিমালা অনুযায়ী, বর্তমান সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমান আমির নির্বাচিত হতে পারেন—এমন আলোচনা ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।
বুধবার সন্ধ্যায় ফারুকী হাউসের তৃতীয় তলায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি ও কুমিল্লা অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক এটিএম মাছুমের নেতৃত্বে একটি দায়িত্বশীল বৈঠক চলছিল। এ সময় জামায়াত নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর গোলাম কিবরিয়া, একরাম হোসেন বাবু, শাহীনসহ কয়েকজন নেতা সেখানে যান। তারা কেন্দ্রীয় নেতা এটিএম মাছুম ও মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দীন মোহাম্মদের সঙ্গে ১৬ অক্টোবরের আমির নির্বাচন পেছানোর বিষয়ে কথা বলেন।
এরই মধ্যে ভবনটির নিচতলায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। জামায়াতের সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের ব্যক্তিগত গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পরে হামলাকারীরা কার্যালয়ে ঢুকে কয়েকটি চেয়ার ভাঙচুর করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
খবর পেয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে জামায়াতের নেতাকর্মীরা ফারুকী হাউসে আসতে থাকেন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
জামায়াত নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর গোলাম কিবরিয়া বলেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা আসার খবরে আমরা কয়েকজন ফারুকী হাউসে যাই। সেখানে এটিএম মাছুম ভাই ও জামায়াতের আমির দীন মোহাম্মদ ভাইয়ের সঙ্গে নির্বাচন পেছানো নিয়ে কথা বলি। এরই মধ্যে নিচতলায় কে বা কারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সেক্রেটারির গাড়ি ভাঙচুর করে চলে যায়। এতে আমাদের দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। যতটুকু জেনেছি, তারা আমাদের দলের কেউ নন।
হামলার বিষয়ে জানতে কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দীন মোহাম্মদ ও সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তাদের খুদেবার্তাও পাঠানো হয়। তবে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মোশাররফ হোসেন বলেন, এটা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। অফিসের ভেতরে কেন্দ্রীয় নেতা এটিএম মাছুম ভাইসহ আমাদের বৈঠক চলছে। পরে আমরা গণমাধ্যমে ব্রিফিং দেব।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, জামায়াতের পদ নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। একটি মামলার সাক্ষ্য দিতে তিনি চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন। কুমিল্লা থেকে থানার এক কর্মকর্তা তাকে বিষয়টি জানিয়েছেন।








