ঢাকার জাতীয় বাহা’ই কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এক প্যানেল আলোচনায় এই শক্তিশালী বার্তাটি উঠে আসে।
“সমতাভিত্তিক সমাজের ভিত্তি হিসেবে কন্যাশিশুর শিক্ষা” শীর্ষক এই আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা মত দেন যে, একটি মেয়েকে শিক্ষিত করা কেবল একটি ভবিষ্যৎ গড়া নয়, বরং একটি পরিবার, একটি প্রজন্ম এবং শেষ পর্যন্ত একটি সমাজের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা।
আলোচনায় প্যানেলিস্টরা বলেন, প্রকৃত শিক্ষা শুধু ভালো ফলাফল বা ডিগ্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি অবশ্যই বুদ্ধিবৃত্তিক, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক গুণাবলী – যেমন সততা, ন্যায়বোধ, সহমর্মিতা ও সম্মানবোধের বিকাশ ঘটাবে।
আলোচকরা সকল শিশুর জন্য নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং দারিদ্র্য, বাল্যবিবাহ, কুসংস্কার ও ডিজিটাল বৈষম্যের মতো বাধা দূর করতে পরিবার, সমাজ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ উদ্যোগের আহ্বান জানান।
ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী মাহরুখ মহিউদ্দিন জোর দিয়ে বলেন, সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনে মেয়েদের শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি একদিকে মৌলিক অধিকার, অন্যদিকে সামাজিক পরিবর্তনের চালিকাশক্তি। শিক্ষিত মেয়েরা সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারে, জীবিকা অর্জন করতে পারে এবং বৈষম্যকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে। তিনি বাংলাদেশ ও রুয়ান্ডার উদাহরণ দিয়ে দেখান যে, জেন্ডার সমতাকে জাতীয় অগ্রাধিকার দিলে টেকসই বিনিয়োগের মাধ্যমে জেন্ডার ব্যবধান কমানো সম্ভব।
সেভ দ্য চিলড্রেন-এর জনাব ওমর ফারুক বলেন, মেয়েদের শিক্ষায় বাংলাদেশের অগ্রগতি উল্লেখযোগ্য হলেও শুধু অংশগ্রহণ সমতা নিশ্চিত করে না। এমন পরিবেশ তৈরি করা জরুরি যেখানে মেয়েরা নিরাপদে শিখতে পারে, তাদের শিক্ষা সম্পন্ন করতে পারে এবং নিজের ভবিষ্যৎ নিজে বেছে নিতে পারে।
বাংলাদেশ বাহা’ই সম্প্রদায়ের নাসিমা আহমেদ* বলেন, মেয়েশিশুর শিক্ষা কেবল একজন মেয়ের ভবিষ্যৎ নয়, এটি একটি পরিবার, একটি প্রজন্ম ও সমাজকে গঠন করে। তিনি বলেন, বাহা’ই দৃষ্টিভঙ্গিতে মেয়েদের শিক্ষাকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, কারণ নারীরাই পরবর্তী প্রজন্মের প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষিকা।
পেশায় প্রকৌশলী এবং বাহা’ই সম্প্রদায়ের সদস্য জনাব জিসান উদ্দিন বলেন, তিনি শিক্ষাকে একটি সমতাভিত্তিক ও আত্মনির্ভরশীল সমাজ গঠনের ভিত্তি হিসেবে দেখেন। তিনি মেয়েদের শিক্ষা ও অগ্রগতিতে পুরুষদের দায়িত্ব, পরিবারে মেয়েদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাদের সক্ষমতার প্রতি আস্থা রাখার ওপর জোর দেন।
আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ বাহা’ই সম্প্রদায়ের ড. কলিস আলী।
অনুষ্ঠানের শেষে অংশগ্রহণকারীদের জন্য উন্মুক্ত আলোচনার সুযোগ রাখা হয়েছিল, যেখানে প্রাণবন্ত ও পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়াপূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও মতামত বিনিময়ের পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি ছিল ছেলে ও মেয়ে উভয়ের জন্য নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব; এ ক্ষেত্রে বাহাই সম্প্রদায় সমাজের সর্বস্তরের মানুষের জন্য বিশেষ শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করে এবং সবাইকে এসব কোর্সে অংশ নিয়ে শিশুদের নৈতিক শিক্ষায় অবদান রাখার আহ্বান জানান।








