
বাংলাদেশে খাদ্য উৎপাদন বাড়ছে, কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার বিস্তৃত হচ্ছে, অথচ সবার জন্য পুষ্টিকর ও সাশ্রয়ী খাদ্য নিশ্চিত করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। বাজারে খাদ্যপণ্য থাকলেও অনেক পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা সীমিত। কৃষক উৎপাদন ব্যয়ের চাপ সামলাচ্ছেন, ভোক্তা ন্যায্য দামে পণ্য কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন, আর নিরাপদ ও সুষম খাদ্যের অভাবে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এই বাস্তবতা প্রমাণ করে, খাদ্যনিরাপত্তা শুধু উৎপাদনের হিসাব নয়, এটি অর্থনৈতিক সামর্থ্য, সুশাসন, জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্ন।
এ বছর বিশ্ব খাদ্য দিবস-এর প্রতিপাদ্য ‘Innovate today. Nourish tomorrow’. ‘আজ উদ্ভাবন, আগামী দিনের পুষ্টি’। খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) বলছে, প্রযুক্তি, গবেষণা, নীতিগত উদ্যোগ ও স্থানীয় জ্ঞানের সমন্বয়ে এমন খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে সবাই পর্যাপ্ত, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার পায় এবং পরিবেশও সুরক্ষিত থাকে। বাংলাদেশে খাদ্য উৎপাদন ও সরকারি মজুত বাড়লেও উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া, দুর্যোগে জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং পুষ্টিকর খাবারের উচ্চমূল্য খাদ্যনিরাপত্তার পথে বড় বাধা হয়ে আছে।বিশ্ব খাদ্য দিবসে তাই আনুষ্ঠানিক আলোচনা নয়, প্রয়োজন রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা, কার্যকর বাজার তদারকি এবং প্রত্যেক মানুষের খাদ্যপ্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করার বাস্তব উদ্যোগ।
প্রতি বছর ১৬ অক্টোবর বিশ্ব খাদ্য দিবস পালিত হয়। ১৯৪৫ সালের এই দিনে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) প্রতিষ্ঠিত হয়। খাদ্যসংকট মোকাবিলা, ক্ষুধা ও অপুষ্টি দূরীকরণ এবং টেকসই কৃষির প্রসারে আন্তর্জাতিক সচেতনতা তৈরিই এ দিবসের অন্যতম উদ্দেশ্য। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার দ্বিতীয় লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে ক্ষুধার অবসান, খাদ্যনিরাপত্তা অর্জন, পুষ্টির উন্নয়ন এবং টেকসই কৃষির প্রসার। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি খাদ্যের ন্যায্য মূল্য, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা, নিরাপদ খাদ্য এবং পুষ্টির নিশ্চয়তাকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। কৃষকের শ্রম, কৃষি গবেষণা, উন্নত বীজ, সেচব্যবস্থা এবং প্রযুক্তির ব্যবহারে খাদ্য উৎপাদনে অগ্রগতি হয়েছে। FAO-এর ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রকাশিত বাংলাদেশবিষয়ক প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের বোরো ধানের উৎপাদন প্রায় ৩ কোটি ১৯ লাখ টন হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা আগের বছরের উচ্চ উৎপাদনের কাছাকাছি। কিন্তু একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি ৮১ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়তে পারেন।
এই পূর্বাভাসে মে থেকে আগস্ট সময়ের আনুমানিক ১ কোটি ৫৩ লাখ মানুষের তুলনায় পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। সীমিত ক্রয়ক্ষমতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বন্যায় জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াকে এর গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ খাদ্য উৎপাদনে অগ্রগতি থাকলেও খাদ্য কেনার সামর্থ্য ও সুষম খাদ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত না হলে খাদ্যনিরাপত্তা অর্জন সম্ভব নয়।
বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তার অন্যতম বড় বাধা হলো সাধারণ মানুষের আয় ও খাদ্যমূল্যের মধ্যে অসামঞ্জস্য। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো প্রথমে মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ফলমূল ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। ফলে পরিবারের সদস্যরা প্রয়োজনীয় ক্যালরি পেলেও পর্যাপ্ত প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, গর্ভবতী নারীর স্বাস্থ্য এবং প্রবীণদের পুষ্টির ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
খাদ্যের বাজারমূল্য শুধু সরবরাহের ওপর নির্ভর করে না, উৎপাদন ব্যয়, পরিবহন, জ্বালানি, আমদানি, সংরক্ষণ এবং বাজারে প্রতিযোগিতার অবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই কোনো পণ্যের দাম বাড়লে প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান না করে কেবল সাময়িক অভিযান চালালে স্থায়ী সমাধান আসবে না।
সরকারের দায়িত্ব হলো উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যন্ত খাদ্য সরবরাহব্যবস্থার প্রতিটি ধাপ পর্যবেক্ষণ করা। কৃষিপণ্যের উৎপাদন ব্যয়, পাইকারি ও খুচরা মূল্য, মজুত, আমদানি এবং পরিবহন ব্যয়ের তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করতে হবে। মজুতদারি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কিংবা বাজার কারসাজির প্রমাণ পাওয়া গেলে নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগ করতে হবে। একই সঙ্গে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ানো, কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি পণ্য সংগ্রহের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের অযৌক্তিক প্রভাব কমানোর উদ্যোগ প্রয়োজন।
সরকারি খাদ্য সংগ্রহ ও বিতরণব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কৃষক ন্যায্য মূল্য পান এবং ভোক্তারা সাশ্রয়ী দামে খাদ্য কিনতে পারেন।
কৃষক খাদ্যব্যবস্থার মূল ভিত্তি হলেও উৎপাদনের ঝুঁকি তাঁকেই সবচেয়ে বেশি বহন করতে হয়। বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ, শ্রমিক ও জমির ব্যয় বেড়ে গেলে উৎপাদন ব্যাহত হয়। অন্যদিকে ফসল ওঠার সময় পর্যাপ্ত সংরক্ষণাগার, হিমাগার, পরিবহন ও বাজারজাতকরণের সুযোগ না থাকলে কৃষক কম দামে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হতে পারেন। এতে কৃষকের ন্যায্য আয় ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পরবর্তী মৌসুমে উৎপাদনে বিনিয়োগের সক্ষমতা কমে যায়। তাই কৃষিঋণ সহজলভ্য করা, মানসম্মত বীজ ও কৃষি উপকরণের সরবরাহ নিশ্চিত করা, ফসলের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং আধুনিক সংরক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।
কৃষিকে শুধু উৎপাদনের খাত হিসেবে নয়, জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তা ও গ্রামীণ কর্মসংস্থানের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
খাদ্যনিরাপত্তার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নিরাপদ খাদ্য। ভেজাল, ক্ষতিকর রাসায়নিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার, কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ, জীবাণুদূষণ এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করে। বাংলাদেশে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ রয়েছে। এই আইনে খাদ্য উৎপাদন, আমদানি, প্রক্রিয়াকরণ, মজুত, সরবরাহ, বিপণন ও বিক্রয় নিয়ন্ত্রণের বিধান রাখা হয়েছে। কিন্তু আইন কার্যকর করতে হলে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বিএসটিআই, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
নিয়মিত নমুনা পরীক্ষা, পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ঝুঁকিপূর্ণ পণ্যের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা এবং পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের মাধ্যমে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। খাদ্যে ভেজালের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণভিত্তিক ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে নিরপরাধ ব্যবসায়ী হয়রানির শিকার না হন এবং অপরাধীরা শাস্তি এড়াতে না পারেন।
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুষ্টির বিষয়টিও রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকারে রাখতে হবে। পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের সুযোগ না থাকলে শিশুদের বিকাশ, শিক্ষায় মনোযোগ, কর্মক্ষমতা এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অন্যদিকে অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও অস্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবারের ওপর নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। পরিবারে সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা, বিদ্যালয়ে পুষ্টিশিক্ষা চালু রাখা এবং মা ও শিশুর পুষ্টিসেবা জোরদার করা প্রয়োজন।
দরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্য পুষ্টিকর খাদ্য সহায়তা এবং প্রয়োজনভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। তবে পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মাছ, ডিম, দুধ, ডাল, শাকসবজি ও ফলমূলের দাম সাধারণ মানুষের নাগালে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। পুষ্টিকর খাবার কেনার সামর্থ্য না থাকলে শুধু সচেতনতামূলক প্রচারণা দিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব নয়।
বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তার সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সম্পর্কও গভীর। বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, নদীভাঙন এবং উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা কৃষি উৎপাদন ও কৃষকের জীবিকাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। কৃষিজমি কমে যাওয়া, মাটির উর্বরতা হ্রাস এবং সেচের পানির ওপর চাপ বৃদ্ধিও দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি করছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় জলবায়ুসহিষ্ণু ফসলের জাত উদ্ভাবন, কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ, পানি সাশ্রয়ী সেচপ্রযুক্তি এবং অঞ্চলভিত্তিক ফসল পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। দুর্যোগের পূর্বাভাস কৃষকের কাছে দ্রুত পৌঁছে দিতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন ও পুনরায় উৎপাদনে ফেরার জন্য সহায়তা দিতে হবে।
খাদ্য উৎপাদনের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণকে কৃষি পরিকল্পনার অবিচ্ছেদ্য অংশ করতে হবে।
খাদ্য অপচয় রোধেও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। ফসল সংগ্রহের পর যথাযথ সংরক্ষণ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণের অভাবে কৃষিপণ্যের একটি অংশ নষ্ট হয়। পরিবার, হোটেল, রেস্তোরাঁ ও সামাজিক অনুষ্ঠানে প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশন করলেও অপচয় বাড়ে। খাদ্য সংরক্ষণ অবকাঠামো উন্নত করা, আধুনিক সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার কেনা ও পরিবেশনের অভ্যাস তৈরি করতে হবে। নিরাপদ ও ব্যবহারযোগ্য উদ্বৃত্ত খাবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে দরিদ্র মানুষের মধ্যে বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এতে একদিকে খাদ্যের অপচয় কমবে, অন্যদিকে খাদ্যপ্রাপ্তিতে বঞ্চিত মানুষের উপকার হবে।
সমস্যাগুলো কার্যকরভাবে সমাধানের জন্য প্রয়োজন তথ্যভিত্তিক মনিটরিং ও জবাবদিহি। কৃষি, খাদ্য, বাণিজ্য, স্বাস্থ্য এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তথ্য সমন্বয় করে একটি কার্যকর খাদ্যনিরাপত্তা পর্যবেক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলা দরকার। কোন অঞ্চলে খাদ্যসংকট বাড়ছে, কোন পণ্যের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, কোন জনগোষ্ঠী পুষ্টির ঝুঁকিতে রয়েছে এবং সরকারি সহায়তা প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে পৌঁছাচ্ছে কি না, তা নিয়মিত মূল্যায়ন করতে হবে। খাদ্যগুদামের মজুত, সরকারি সংগ্রহ, বাজারমূল্য এবং খাদ্যসহায়তা বিতরণের তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ ও প্রকাশ করা প্রয়োজন।
নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে অগ্রগতি পর্যালোচনা করে ব্যর্থতার কারণ চিহ্নিত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নির্দিষ্ট করা এবং অনিয়মের ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করা ছাড়া নীতিমালা বাস্তবায়ন কার্যকর হবে না।
খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জনগণেরও দায়িত্ব রয়েছে। খাদ্যের অপচয় কমানো, স্বাস্থ্যসম্মতভাবে খাবার সংরক্ষণ, সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা এবং ভেজাল বা অনিরাপদ খাদ্য সম্পর্কে দায়িত্বশীলভাবে অভিযোগ জানানোর অভ্যাস তৈরি করতে হবে। গণমাধ্যমকে খাদ্যমূল্য, কৃষকের অধিকার, খাদ্যের মান এবং পুষ্টি বিষয়ে নিয়মিত তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় সরকারকে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। তবে নাগরিক সচেতনতার কথা বলে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
খাদ্য সরবরাহ, বাজার তদারকি, নিরাপদ খাদ্য, পুষ্টি এবং দুর্যোগের সময় সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সরকারের দায়িত্ব।
বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি খাদ্যের ন্যায্য মূল্য, নিরাপত্তা, পুষ্টিগুণ এবং সবার ক্রয়ক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষকের ন্যায্য অধিকার রক্ষা, বাজারে স্বচ্ছতা, খাদ্যমান নিয়ন্ত্রণ, জলবায়ুসহিষ্ণু কৃষি, খাদ্য অপচয় রোধ এবং নিয়মিত মনিটরিংকে সমন্বিত জাতীয় কর্মপরিকল্পনার আওতায় আনতে হবে। সরকারকে কার্যকর নীতি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে, ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল হতে হবে এবং জনগণকে সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশ্ব খাদ্য দিবসের অঙ্গীকার হোক, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে খাদ্য উৎপাদনের সাফল্য মানুষের সুস্থ জীবন ও পুষ্টি সরবরাহ নিশ্চিত করবে।
যেখানে কোনো পরিবার অর্থাভাবে পুষ্টিকর খাবার থেকে বঞ্চিত হবে না এবং কোনো মানুষ অনিরাপদ খাদ্যের ঝুঁকিতে পড়বে না। খাদ্যনিরাপত্তা মানুষের অধিকার, পুষ্টি সুস্থ জীবনের ভিত্তি আর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে প্রয়োজন টেকসই উন্নয়ন।



