# আট বছরেও শেষ হয়নি সংযোগ সড়ক, বাতিল ঠিকাদারের কার্যাদেশ
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার মনু নদীর ওপর নির্মিত রাজাপুর সেতুর সংযোগ সড়কের কাজ আট বছরেও শেষ হয়নি। নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন করতে না পারায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পটি অসম্পূর্ণ অবস্থায় সমাপ্ত ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করতে বিকল্প প্রকল্পের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট সড়ক বিভাগ। তবে নতুন প্রকল্প কবে অনুমোদন পাবে এবং কবে নাগাদ সংযোগ সড়কটি পুরোপুরি চালু হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।
জানা গেছে, ২০১৮ সালে ৯৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে রাজাপুর সেতু প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। ২৩২ দশমিক ৯৪ মিটার দীর্ঘ মূল সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলেও সাড়ে সাত কিলোমিটার সংযোগ সড়ক ও ২০টি কালভার্টের কাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে প্রকল্পের প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
গত ২৬ জুন সংশ্লিষ্ট স্টিয়ারিং কমিটির সভায় প্রকল্পটি অসম্পূর্ণ অবস্থায় সমাপ্ত ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে গত ১২ অক্টোবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। অবশিষ্ট কাজ বিকল্প প্রকল্পের মাধ্যমে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে সংশ্লিষ্ট সড়ক বিভাগের।
এদিকে সংযোগ সড়কের কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন দক্ষিণ কুলাউড়ার বাসিন্দারা। সড়কটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে শরীফপুর ও হাজীপুর ইউনিয়নের মানুষের উপজেলা সদরে যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি সময় ও দূরত্ব অনেকাংশে কমে আসবে। একই সঙ্গে পৃথিমপাশা ইউনিয়নের রবিরবাজারসহ আশপাশের এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিপণ্য পরিবহনে গতি আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
কিন্তু দীর্ঘদিনেও কাজ শেষ না হওয়ায় স্থানীয়দের সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। এর মধ্যে সংযোগ সড়কের গজভাগ এলাকায় ফাটল দেখা দেওয়ার পাশাপাশি মাটি ধসে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। এতে সড়কের স্থায়িত্ব ও নির্মাণকাজের গুণগত মান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রকল্পটি অসম্পূর্ণ অবস্থায় সমাপ্ত ঘোষণার সিদ্ধান্তের পর অবশিষ্ট কাজের অর্থায়ন কীভাবে হবে, নতুন প্রকল্প কবে অনুমোদন পাবে এবং সেতুটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে আর কত সময় লাগবে—এসব প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয়দের মধ্যে।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, রাজাপুর সেতুর সংযোগ সড়কের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে না পারায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। অবশিষ্ট কাজ বিকল্প প্রকল্পের মাধ্যমেই সম্পন্ন করা হবে। নতুন প্রকল্পটি চলতি অর্থবছরেই অনুমোদন পেতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
স্থানীয়দের দাবি, নতুন প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে সংযোগ সড়কের অবশিষ্ট কাজ শুরু করতে হবে। পাশাপাশি গজভাগ এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত অংশ জরুরি ভিত্তিতে মেরামত এবং নির্মাণকাজের গুণগত মান যাচাই করতে হবে। দীর্ঘ আট বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে রাজাপুর সেতুর পূর্ণাঙ্গ সুফল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এমন প্রত্যাশা তাঁদের।








