শিরোনাম
একই দিনে দৌলতপুর ও গাংনী সীমান্তে বিএসএফের দুই পুশ-ইন চেষ্টা, রুখে দিল বিজিবিনাওড়ার রাবেয়া হত্যায় গ্রেপ্তার এক, আদালতে স্বীকারোক্তিসৌদিতে হামলায় ট্রাম্পের ক্ষোভ : ইঙ্গিত দিলেন যুদ্ধে যোগদানের৫ দাবিতে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ঘেরাও যুবশক্তিরনারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সরকার : তথ্য প্রতিমন্ত্রীতাজমিন হত্যার দায় স্বীকার সুমনেরমমতা ও কেজরিওয়ালকে ছেড়ে দিল দিল্লি পুলিশস্থগিত হওয়া যুব উন্নয়নের পরীক্ষা ১৬ অক্টোবরবার্সেলোনার টানা অষ্টম জয়পেনসিলভানিয়ায় বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৮সৌদির রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিস্ফোরণবর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের প্রকল্প পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

শীতের আগমনী বার্তা: চুয়াডাঙ্গায় খেজুর রস সংগ্রহের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত গাছিরা

প্রকাশ:
পড়তে সময় লাগবে ২ মিনিটপড়া হয়েছে ০ বার

চুয়াডাঙ্গা: ভোরের ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশিরবিন্দু আর সন্ধ্যার হিমেল হাওয়া জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। ঋতু পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে চুয়াডাঙ্গা জেলার মাঠে মাঠে খেজুর গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় গাছিরা।রস সংগ্রহের জন্য নিপুণ হাতে গাছ চাঁছাছোলা (পরিষ্কার) করার কাজে এখন দম ফেলার ফুসরত নেই তাদের। কোমরে দড়ি আর ঠোঙা বেঁধে, হাতে ধারালো দা নিয়ে মাঠের এক গাছ থেকে অন্য গাছে ছুটে চলছেন গাছিরা। জেলার ৪টি উপজেলার প্রতিটি মাঠেই এখন চলছে আগাম গাছ কাটার এক অলিখিত প্রতিযোগিতা।

ইতিমধ্যে অনেক গাছেই রস নামানোর জন্য ‘নলি’ বসানোর কাজ শুরু হয়ে গেছে। আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরেই শুরু হবে কাঙ্ক্ষিত রস সংগ্রহ।শীতের মৌসুম মানেই চুয়াডাঙ্গার গ্রামগঞ্জে নলেন গুড়ের মৌ মৌ গন্ধ। আর কদিন পরেই সকালের মিষ্টি রোদে বসে চুমুক দেওয়া খেজুরের রস, আর ঘরে ঘরে রস-ক্ষীর ও পায়েস তৈরির ধুম পড়বে। চুয়াডাঙ্গা জেলা বরাবরই ভেজালমুক্ত ও সুস্বাদু খেজুর গুড়ের জন্য বিখ্যাত। ফলে এখানকার গুড় ও পাটালির চাহিদা দেশজুড়ে।গাছিরা জানান, নভেম্বর মাসের শুরু থেকেই গাছে গাছে মাটির হাঁড়ি পাতা হবে।

এবার মৌসুমের শুরুতেই প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫টি করে গাছ কাটছেন একেকজন গাছি। এ কাজের জন্য দৈনিক মজুরি মিলছে ১,০০০ থেকে ১,২০০ টাকা পর্যন্ত। ভালো পারিশ্রমিক পেয়ে খুশি শ্রমিকেরাও।

জীবননগর এলাকার গাছি ফজলু জানান, “পরবর্তীতে গাছ কাটার লোকের সংকট দেখা দেয়, তাই এবার আগেভাগেই গাছ তোলার কাজ শুরু করেছি। প্রতিদিন ১,০০০-১,২০০ টাকা হাজিরা দিয়ে শ্রমিক খাটাতে হচ্ছে।” চুয়াডাঙ্গা জীবননগর উপজেলার কাশিপুর গ্রামের গাছি মতিয়ার রহমান জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও তিনি আগেভাগেই নিজের ১২০টি খেজুর গাছ রস সংগ্রহের জন্য প্রস্তুত করেছেন। শীতের এই কয়েক মাস খেজুর গাছ থেকে অর্জিত আয় দিয়েই মূলত তাদের সারা বছরের সংসার খরচ ও জীবন-জীবিকা নির্বাহ হয়।

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ২ লাখ ৭১ হাজার খেজুর গাছ রয়েছে। এসব গাছ থেকে এবার ২ হাজার ৫০০ টন (আড়াই হাজার টন) গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) কৃষনো রায় জানান, চুয়াডাঙ্গা জেলার খেজুর গুড়ের গুণগত মান অত্যন্ত চমৎকার এবং বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। গাছিরা যেন সুষ্ঠুভাবে রস সংগ্রহ ও গুড় উৎপাদন করতে পারেন, সেজন্য কৃষি বিভাগ থেকে সব ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এখানকার উৎপাদিত গুড় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রতি বছরের মতো এবারও দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হবে।

সম্পর্কিত সংবাদ

এই বিভাগের আরও সংবাদ