পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। দিল্লিতে সিইসির পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ঘিরে আজ তাদের আটক করা হয়েছিল।
আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে মমতাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তার সঙ্গে আটক বাকি তৃণমূল নেতাদেরও ছেড়ে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ।
এদিকে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী কেজরিয়ালকেও ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। জাফরপুর কালান পুলিশ স্টেশন থেকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
মনে হচ্ছিল যেন অপহরণ করা হচ্ছে: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘দিল্লির যন্তর মন্তরে যাওয়ার পথে পুলিশ আমাদের বাধা দেয়। পরে জোর করে প্রিজন ভ্যানে তুলে বিভিন্ন থানায় ঘোরানো হয়। ওই সময় আমাদের মনে হচ্ছিল, যেন অপহরণ করা হচ্ছে।’
মমতা বলেন, ‘ইন্ডিয়া জোটেরও গতকাল একটি কর্মসূচি ছিল। আমরা সেখানে যাওয়ার আগে বাড়ির বাইরে মোতায়েন পুলিশ সদস্যদের জিজ্ঞাসা করি, আমাদের যন্তর মন্তরে যেতে দেওয়া হবে কিনা। তারা জানান, যেতে দেওয়া হবে না; পথে আটকে দেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, আমাদের যেতে বাধা দেওয়ায় বাড়ির সামনের বাসস্ট্যান্ডে বসেছিলাম। আমরা সেখানে সমর্থন জানাতে গিয়েছিলেন। পরে পুলিশ এসে জানায়, একসঙ্গে তিনজনের বেশি থাকা যাবে না।
মমতার ভাষ্য, ‘এক মিনিটের মধ্যেই পুলিশ আমাদের সরিয়ে দেয়। জোর করে প্রিজন ভ্যানে তুলে নিয়ে যায়, যেন আমরা ভয়ংকর কোনো অপরাধী।’
এ ধরনের অভিজ্ঞতা আমার কখনো হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গ্রেপ্তার করে পুলিশ ভ্যানে তুলে নেওয়া। তারা আমাদের দুই ঘণ্টা ধরে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ঘুরিয়েছে। এক থানায় নিয়ে যায়, পরে আরেক থানায়, তারপর অন্য থানায়। প্রতিটি থানায় বলা হয়, জায়গা নেই। শেষ পর্যন্ত আমাদের মনে হচ্ছিল, যেন অপহরণ করা হচ্ছে।’
নেহা বোরাকে মুক্তি দিল দিল্লি পুলিশ
অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) সভাপতি নেহা বোরাকে মুক্তি দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স এ পোস্ট দিয়ে এ কথা জানিয়েছেন তিনি।
মুক্তি পাওয়ার পর এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নেহা বোরা জানান, পুলিশ তার মুঠোফোন নিয়ে গিয়েছিল। পরে তিনি সেটি ফেরত পেয়েছেন। থানা থেকে আটক অন্য নারীদেরও মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
নেহা বোরা ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ। ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে এই আন্দোলন চলছে।
দিল্লিতে চলমান এই আন্দোলনের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে ভারতের বিভিন্ন শহরেও। বেঙ্গালুরু, মুম্বাই, চেন্নাই, চণ্ডীগড়, কলকাতা, পাটনা ও হায়দরাবাদে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্রসংগঠনের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচির খবর পাওয়া গেছে।








