মঙ্গলবার রাজধানীর কাকরাইলের আইডিইবি ভবনে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর নিহত জামায়াত এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
মতবিনিময়ে কথা বলেন ২৮ অক্টোবরে নিহত গোলাম কিবরিয়া শিপনের বাবা মো. তাজুল ইসলাম, মুজাহিদুল ইসলামের মামা মিজান আহম্মেদ, সাইফুল্লাহ মোহাম্মদ মাসুমের মা শামছুন্নাহার রুমি, হাবিবুর রহমান মৃধার ছেলে রুবেল মৃধা। তারা আওয়ামী লীগ আমলে তাদের ভোগান্তি তুলে ধরেন। ২৮ অক্টোবরের হত্যার বিচার দাবি করেন।
জামায়াতের ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল নয়, ফ্যাসিস্টদের ক্লাব। যখনই মতায় গিয়েছে, বেপরোয়া হত্যা ও সন্ত্রাস চালিয়ে গদি পাকাপোক্ত করতে চেয়েছে। বাহাত্তর থেকে রীবাহিনী দিয়ে মানুষ খুন করিয়েছে। নিঃশর্ত মা চেয়ে ছিয়ানব্বইয়ে মতায় এসে শেখ হাসিনা শাসক হয়েও জনগণকে খুন করার সরাসরি নির্দেশ দেওয়ার ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন।
২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শেষ দিনে লঠি বৈঠা মিছিল করে সেই সময়কার বিরোধী দল আওয়ামী লীগ। সেদিন পল্টনে জামায়াতের সমাবেশে হামলায় নিহত হন দলটির ছয় নেতাকর্মী। তাদের প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল।
শফিকুর রহমান বলেছেন, ২০০১ সালে বিপুল সমর্থন নিয়ে চারদলীয় জোট মতায় এসেছিল। সরকারের শেষ দিনে মানুষ পিটিয়ে হত্যা করার জন্য রাজধানীতে লগি-বৈঠা আনতে নির্দেশ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। হত্যাকাণ্ডে বামপন্থী দোসররা আওয়ামী লীগের সঙ্গে ছিল। জামায়াতের কর্মীদের হত্যা করে লাশের ওপর নৃত্য করেছিল বাপ্পাদিত্য বসু। এমনকি লাশগুলো চুরি করতে চেয়েছিল। প্রতিরোধের মুখে তারা ব্যর্থ হয়েছিল।
জামায়াত আমির বলেছেন, আফসোস! তখনও চারদলীয় সরকার ছিল। তারপরও মাগরিবের আগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ এ তাণ্ডব চালানোর সুযোগ পেল কীভাবে? এখানে কার দুর্বলতা ছিল? আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে নির্মম হত্যাকাণ্ড হয়েছিল। এখানে কোনো বৃহৎ ষড়যন্ত্র ও নোংরা খেলা ছিল কিনা- এটা জাতির বিরাট প্রশ্ন। এসব হত্যাকাণ্ডের মামলা হয়েছিল। এক-এগারোর সরকারের হাত ধরে মতায় এসে শুধু মামলা প্রত্যাহার নয়, নথিপত্র আলামত গায়েব করেছে আওয়ামী লীগ। তবে এই অপরাধ থেকে আওয়ামী লীগ পার পাবে না।
বিরোধীদলীয় নেতা সরকারি দলের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, ফ্যাসিবাদকে কেউ কেউ আশকারা দিচ্ছেন। আওয়ামী লীগের মধ্যে যারা ভালো মানুষ, তারা তাদের পছন্দের ঠিকানা খুঁজে নেবে। কিš’ ফ্যাসিবাদ বাংলাদেশে ফিরে আসবে-এই কল্পনা কেউ করবেন না, স্বপ্ন দেখবেন না, জুজুর ভয় দেখাবেন না।
জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি বলেন, ২৮ অক্টোবর পল্টন মোড়ে শত শত মানুষের সামনে লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে মানুষ হত্যা করে প্রমাণ করে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল নয়, সন্ত্রাসী দল।
মতবিনিয়ম সভায় জামায়াতের নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান এমপি, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, আবদুল হালিম প্রমুখ বক্তৃতা করেন।







