শিরোনাম
বরিশাল সদর ও মেহেন্দিগঞ্জে যুব কণ্ঠ সোসাইটির ত্রাণ বিতরণউচ্চশিক্ষিত তরুণদের ২৯ শতাংশ বেকারকটিয়াদীতে পাঁঁচ শত বছরের ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ঢাকের বাজারসৌদি আরবে বাড়ছে বাসাভাড়া-খাবারের খরচ, চাপে বাংলাদেশি প্রবাসীরাঅপরাধ দমনে বিশেষ অবদান: সম্মাননা পেলেন ধুনটের ওসি আতিকুল ইসলামপাঁচবিবিতে ১ হাজার ৮৩০ পরিবারকে পূজার সামগ্রী উপহার দিলেন মেয়র প্রার্থী শামীমগ্রাম বাঁচলে দেশ বাঁচবেইতিহাসের পাতায় ১৬ অক্টোবর ২০২৬মদিনায় মিসাইল ছোড়ার অভিযোগ মিথ্যা বলল হুথিরাপাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ধসে শিক্ষিকাসহ ২১ শিশুর মৃত্যুডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১০ জনের মৃত্যুবেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠন স্থগিত

সৌদি আরবে বাড়ছে বাসাভাড়া-খাবারের খরচ, চাপে বাংলাদেশি প্রবাসীরা

প্রকাশ:
পড়তে সময় লাগবে ৩ মিনিটপড়া হয়েছে ০ বার

সৌদি আরবে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির চাপে পড়েছেন বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকরা। বাসাভাড়া, খাবারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন খাতে খরচ বেড়ে যাওয়ায় আয়ের বড় একটি অংশ ব্যয় হয়ে যাচ্ছে। ফলে আগের মতো দেশে টাকা পাঠাতে পারছেন না অনেক প্রবাসী। এতে সৌদি আরবে নিজেদের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানোর পাশাপাশি বাংলাদেশে থাকা পরিবারের ভরণপোষণ চালাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁদের।

সৌদি আরবের সরকারি পরিসংখ্যান কর্তৃপক্ষের (GASTAT) জুলাই ২০২৬-এর ভোক্তা মূল্যসূচকের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে আবাসন, পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি খাতে এক বছরে ব্যয় বেড়েছে ৪ দশমিক ২ শতাংশ। একই সময়ে খাদ্য ও পানীয়ের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৫ শতাংশ। সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি তুলনামূলক সীমিত থাকলেও আবাসন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণ ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

প্রবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অল্প সময়ের ব্যবধানেও কোথাও কোথাও বাসাভাড়া উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। অন্যদিকে, অনেক শ্রমিকের বেতন আগের মতোই রয়েছে। ফলে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে গিয়ে তাঁদের সঞ্চয় কমছে, কমছে দেশে পাঠানো অর্থের পরিমাণও।

কুমিল্লা থেকে সৌদি আরবে কাজ করতে আসা হোটেলকর্মী শাহিন জানান, মাত্র চার-পাঁচ মাস আগেও তাঁর বাসাভাড়া ছিল ৪০০ সৌদি রিয়াল। বর্তমানে সেই ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০০ রিয়ালে। অর্থাৎ কয়েক মাসের ব্যবধানে তাঁকে অতিরিক্ত ৩০০ রিয়াল গুনতে হচ্ছে।

শাহিনের এই অভিজ্ঞতা প্রবাসী শ্রমিকদের আবাসন ব্যয়ের চাপের একটি উদাহরণ। সীমিত বেতনে কাজ করা শ্রমিকদের ক্ষেত্রে বাসাভাড়ার এমন বৃদ্ধি মাসিক বাজেটে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

মদিনায় হাউসকিপিংয়ের কাজে নিয়োজিত বাংলাদেশি প্রবাসী কামাল উদ্দিন জানান, তাঁর বেতন আগের মতোই রয়েছে। কিন্তু বাসাভাড়া ও খাবারের খরচ অনেকটাই বেড়েছে। তিনি বলেন, আয় না বাড়লেও দৈনন্দিন খরচ বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো অর্থ সঞ্চয় করা সম্ভব হচ্ছে না।

সৌদি আরবে কর্মরত একাধিক বাংলাদেশি শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে তাঁরা আগের মতো দেশে টাকা পাঠাতে পারছেন না। প্রবাসে নিজেদের থাকা-খাওয়ার খরচ মেটানোর পর পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ পাঠানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে দেশে থাকা স্ত্রী-সন্তান ও স্বজনদের সংসার চালাতেও বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

বিশেষ করে যাঁরা স্বল্প বেতনে কাজ করেন এবং যাঁদের আয়ের ওপর দেশে পুরো পরিবারের ব্যয় নির্ভরশীল, তাঁদের পরিস্থিতি আরও কঠিন। বাসাভাড়া, খাবার, যাতায়াত ও অন্যান্য দৈনন্দিন খরচ মেটাতে গিয়ে মাস শেষে হাতে তেমন অর্থ থাকছে না বলে জানিয়েছেন প্রবাসীরা।

সৌদি আরবের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুলাই ২০২৬-এ দেশটির সামগ্রিক বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ছিল ১ দশমিক ৮ শতাংশ। তবে একই সময়ে আবাসন-সংশ্লিষ্ট খাতে মূল্যবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ২ শতাংশ এবং প্রকৃত আবাসিক ভাড়া বেড়েছিল ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। খাদ্য ও পানীয়ের দামও বছরে ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে।

প্রবাসী শ্রমিকদের মতে, সৌদি আরবে কাজ করে তাঁরা শুধু নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করেন না; দেশের অর্থনীতিতেও রেমিট্যান্সের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। কিন্তু আয় ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য না থাকায় তাঁদের সঞ্চয় এবং দেশে অর্থ পাঠানোর সক্ষমতা কমছে।

তাঁদের দাবি, কাজের ধরন ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি আবাসন ও খাবারের ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে নিয়োগকর্তাদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রবাসে কর্মরত শ্রমিকদের আয়-ব্যয়ের বাস্তবতা এবং দেশে তাঁদের পরিবারের জীবনযাত্রার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার।

সম্পর্কিত সংবাদ

এই বিভাগের আরও সংবাদ