বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আন্দোলনকে যে কয়জন নিষ্ঠাবান মুজাহিদ শূন্যের কোঠা থেকে তুলে এনে আজকের এই পর্যায়ে এনেছেন , তাদের মধ্যে মরহুম শামসুর রহমান উল্লেখযোগ্য। পাইকগাছায় এই বরেণ্য বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ নেতার স্মরণে বিশেষ আলোচনা ও দোয়ার আয়োজন করা হয়।
সোমবার (২ নভেম্বর) বিকালে পাইকগাছা পৌরসভার সিরাতুল হুদা ট্রাস্টের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে ।
খুলনা অঞ্চলে ইসলাম প্রচারের সূফী, ধারক ও বাহক ছিলেন হযরত খানজাহান আলী (রহ. )। খুলনা জেলার পাইকগাছা জনপদে ইসলামের আলোকবর্তিকা হয়ে মরহুম শামসুর রহমান ইসলামী আদর্শের ঝাণ্ডা হাতে তুলে নিয়েছিলেন। তিনি এ অঞ্চলের মানুষের দুনিয়া ও আখিরাতের মুক্তির জন্য জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলনের কাজে ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ। তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে তাঁর সাথে ইসলাম প্রতিষ্ঠায় আত্মনিয়োগ করেছেন অসংখ্য মানুষ। তিনি বিপুল ভোটে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করেছেন। তাঁর দেখানো আদর্শ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছে ‘শামসুর রহমান ফাউন্ডেশন’।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য , খুলনা জেলা শাখার সিনিয়র নায়েবে আমির ও উপাধ্যক্ষ মাওঃ গোলাম সরোয়ার ।
পাইকগাছা জামায়াতে ইসলামীর পৌর সেক্রেটারী মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায়
বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা ইউনিট সদস্য অধ্যাপক আব্দুল মমিন সানা, পৌর আমির ডা. আছাদুল ইসলাম, পৌর মেয়র পদপ্রার্থী এ্যড. মোর্তজা জামান আলমগীর (রুলু), সহ-সেক্রেটারি মো. সফিয়ার রহমান, ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান (মুসা), ইউনিয়ন সেক্রেটারি ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সাবেক শিবির নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন, হাফেজ মাওলানা আবুল বাশার, মাওলানা আব্দুল কাদির, এ্যাড. বেলাল উদ্দীন, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন, সাবেক শিবির নেতা আব্দুস সালাম, শামসুর রহমান ফাউন্ডেশনের পাইকগাছা উপজেলা সভাপতি মো. তামিম রায়হান, শেখ মুরশাফুল আলম ও মো. সোহেল আহমেদ।
এ সময় স্থানীয় জামায়াতের অন্যান্য নেতাকর্মীও উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সাবেক নায়েবে আমির ও বরেণ্য বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ ছিলেন। তিনি একাধারে সাংবাদিক, সাহিত্যক ও দার্শনিক ছিলেন। এছাড়াও তিনি খুলনা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।
আলোচনা সভায় অন্যান্য বক্তারা মরহুম আলহাজ্ব শামসুর রহমানের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন, সাংবাদিকতা, সমাজসেবা ও কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে স্মৃতিচারণ করেন। তাঁরা বলেন, শামসুর রহমান ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিবিদ ও সৎ সাংবাদিক। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, সততা, আদর্শ, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং সমাজের প্রতি অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
বক্তারা নতুন প্রজন্মের কাছে মরহুমের আদর্শ ও অবদান তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য হলো— সমাজের দুস্থ মানুষের সেবার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পরকালের মুক্তি অর্জন করা। বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়তে সমাজের চরম দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনা। আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি ইসলামী অনুশাসন, সততা ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন আদর্শ নাগরিক তৈরি করা। সুদমুক্ত সমাজ গঠনে সহযোগিতা করা এবং মানুষকে নিজ পায়ে দাঁড়াতে সহায়তা করা। শামসুর রহমান ফাউন্ডেশনের লক্ষ্য: দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও পুনর্বাসনমূলক কাজের মাধ্যমে সমাজ থেকে দারিদ্র্য ও বৈষম্য দূর করা।
নৈতিক শিক্ষাসহ সাধারণ ও কারিগরি শিক্ষার প্রসার ঘটানো—যাতে কেউ শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না হয়। দরিদ্র ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য সুলভ বা বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া। সমাজের অসহায় মানুষকে সুদের অভিশাপ থেকে রক্ষা করতে সুদমুক্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগ বা কল্যাণমূলক তহবিল গঠন করা।
এ উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমাদের কর্মসূচিগুলো হলো:
১. শিক্ষা কর্মসূচি:
অবহেলিত শিশুদের জন্য অবৈতনিক বা সাশ্রয়ীমূল্যের স্কুল ও মক্তব পরিচালনা।
কুরআন শিক্ষা ও নৈতিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন।
দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ।
যুবসমাজ ও নারীদের জন্য কারিগরি ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিচালনা।
২. স্বাস্থ্য ও পুষ্টি কর্মসূচি:
গ্রামীণ এলাকায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, বিনামূল্যে চক্ষুশিবির এবং দাতব্য চিকিৎসালয় পরিচালনা।
চক্ষুশিবির আয়োজন এবং ছানি অপারেশনসহ বিনামূল্যে চশমা বিতরণ।
বিশুদ্ধ পানির সংকট দূর করতে নলকূপ স্থাপন।
স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রেরণামূলক কার্যক্রম।
৩. অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও পুনর্বাসন কর্মসূচি:
সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ বা কল্যাণ তহবিল (করজে হাসানা) প্রদান, যার মাধ্যমে দরিদ্ররা ছোট ব্যবসা বা কৃষিকাজ শুরু করতে পারে।
আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সেলাই মেশিন, ভ্যান বা অন্যান্য কর্মসংস্থানের উপকরণ বিতরণ।
দুস্থ নারীদের জন্য হস্তশিল্প ও কুটিরশিল্প প্রশিক্ষণ ও পণ্যের বাজারজাতকরণে সহায়তা।
৪. জরুরি ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মসূচি:
বন্যা, খরা, শীত বা অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী ও কম্বল বিতরণ।
গৃহহীনদের জন্য গৃহনির্মাণ বা ঘর মেরামত করে দেওয়া।
৫. ধর্মীয় ও সামাজিক কল্যাণ কর্মসূচি:
পবিত্র রমজান মাসে ইফতার ও খাদ্যসামগ্রী (ইফতার ও সাহরি প্যাক) বিতরণ।
ঈদুল আজহায় দরিদ্রদের মাঝে কোরবানির মাংস বিতরণ।
আলোচনা সভা শেষে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। একই সঙ্গে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়।








