সমবায় মানে একা চলা নয়, সবাই মিলে একসাথে বাঁচা। সমবায় মানে দশের লাঠি একের বোঝা। ক্ষুদ্র সঞ্চয় থেকে কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য বিমোচন থেকে গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা — সবই সম্ভব হয় যদি মানুষ সম্মিলিত উদ্যোগে এক হয়। এই চেতনাকে বুকে ধারণ করেই খুলনার কয়রায় পালিত হলো ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস ২০২৬।
উপজেলা প্রশাসন ও সমবায় বিভাগের উদ্যোগে রবিবার (৮ নভেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলা সদরে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
র্যালিটি উপজেলা সদর থেকে বের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। র্যালিতে বিভিন্ন সমবায় সমিতির সদস্য, কর্মকর্তা, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন আর স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো কয়রা সদর।
উপজেলা সমবায় অফিসার মোঃ তানভীর মাসুদুল হাসানের সভাপতিত্বে ও কপোতাক্ষ কলেজের সহকারী অধ্যাপক বিদেশ রঞ্জন মৃধার সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল্লাহ আল জাবির, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা কে এম মফিজুর রহমান, খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য এম এ হাসান, উপজেলা পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকর্তা মোঃ বিল্লাল হোসেন, ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার মোঃ আহাদ আলী, অ্যাডভোকেট আকবর হোসেন, অ্যাডভোকেট আনিছুর রহমান, সহকারী সমবায় অফিসার মোঃ তোরাব আলী, সমবায়ী সালমা নাজ, মারুফা আক্তার, রাসেল আহমেদ, সোনালী মিস্ত্রী, সুমিত্রা মুন্ডা, কমলেশ মণ্ডল প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, সমবায় হচ্ছে সম্মিলিত উদ্যোগে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন ও আর্থসামাজিক উন্নয়নের অন্যতম মাধ্যম। সমবায়ের মাধ্যমে ক্ষুদ্র সঞ্চয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা সম্ভব।
তাই সমবায় সমিতিগুলোকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।
আলোচনা শেষে উপস্থিত সকলের মধ্যে একটাই প্রত্যয় ধ্বনিত হয় — কয়রার প্রতিটি গ্রামে, প্রতিটি পাড়ায় সমবায়ের আলো ছড়িয়ে দিতে হবে। একা কেউ বড় হয় না, সবাই মিলেই কয়রা বড় হবে। সমবায়ের এই মিলন-মেলাই হোক আগামীর সমৃদ্ধ কয়রার ভিত্তি।







