তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৬তম বাংলাদেশ কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াড ২০২৭-এর প্রিলিমিনারি রাউন্ড। এতে খুলনার বিভিন্ন কলেজের একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ৪০৭ শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) কুয়েট ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ কেমিক্যাল সোসাইটির আয়োজনে এ অলিম্পিয়াডের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এ সময় প্রধান অতিথিসহ অতিথিরা জাতীয় পতাকা, কুয়েটের পতাকা ও বাংলাদেশ কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলন করেন। পরে শিক্ষার্থীদের শপথবাক্য পাঠ করানো হয় এবং প্ল্যাকার্ড সংবলিত বেলুন উড়িয়ে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদ বলেন, বিজ্ঞানচর্চার শুরু ‘কী’ ও ‘কেন’ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার মধ্য দিয়ে। শুধু মুখস্থ বিদ্যা নয়, কোনো বিষয় কেন ও কীভাবে ঘটছে, তা জানার আগ্রহই একজন শিক্ষার্থীকে প্রকৃত বিজ্ঞানমনস্ক করে তোলে। রসায়ন প্রকৃতি, পদার্থ ও দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন পরিবর্তন সম্পর্কে জানতে শেখায়।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন করার সাহস, যুক্তিনির্ভর চিন্তা ও গবেষণার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশ কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াড শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশের পাশাপাশি ভবিষ্যতের বিজ্ঞানী ও গবেষক তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের পাশাপাশি জ্ঞান অর্জন, সত্য অনুসন্ধান ও মানবকল্যাণে বিজ্ঞানের প্রয়োগেও শিক্ষার্থীদের আগ্রহী হতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও স্বাগত বক্তব্য দেন অলিম্পিয়াডের কনভেনর এবং কুয়েটের বিজ্ঞান ও মানবিক অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. হাসান আলী এবং খুলনার সরকারি এম এম সিটি কলেজের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক শেখ মো. আব্দুল্লাহ।
বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে রসায়ন বিষয়ে আগ্রহ সৃষ্টি, বৈজ্ঞানিক চিন্তার বিকাশ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের উপযোগী করে গড়ে তুলতে এ ধরনের অলিম্পিয়াড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আয়োজকেরা জানান, এক ঘণ্টার পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের ৬০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ১০ জন করে মোট ২০ জনকে নির্বাচিত করে পুরস্কৃত করা হবে।
এবার দেশের ১৫টি আঞ্চলিক কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে অলিম্পিয়াডের প্রিলিমিনারি রাউন্ড। এসব কেন্দ্র থেকে বাছাই করে ২০০ শিক্ষার্থীকে ফাইনাল রাউন্ডের জন্য নির্বাচন করা হবে। সেখান থেকে সেরা চারজন আন্তর্জাতিক কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।
আগামী ২৮ নভেম্বর ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে অলিম্পিয়াডের চূড়ান্ত পর্ব।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মেধাবী শিক্ষার্থীরা রসায়ন বিষয়ে জ্ঞান ও দক্ষতা বিকাশের সুযোগ পাবে এবং ভবিষ্যতে বিজ্ঞান ও গবেষণায় অবদান রাখতে অনুপ্রাণিত হবে।








