
আজ সারাটা দিন যেন বৃষ্টি নয়, এক অনন্তশূন্যতার নীরব ভাষা। তুমি ছিলে না, অথচ আমি ভিজলাম এমনভাবে, যেন প্রতিটি ফোঁটা তোমার না-থাকার মধ্যেও এক অদ্ভুত উপস্থিতি বয়ে নিয়ে আসে। যেন আকাশ নিজেই আজ আমার হয়ে কেঁদেছে, তোমার অনুপস্থিতিকে বুকে আগলে রেখে।
তুমি ছিলে না, কিন্তু তবু প্রতিটি ফোঁটায় ছিল তোমার ছায়া। যেন তুমি নিজে বৃষ্টিতে রূপ নিয়েছো, আর আমি ভিজে যাচ্ছি তোমার সত্তায়। আমার প্রতিটি ত্বক তোমাকে ছুঁয়েছে, অথচ আমার চোখে তুমি অধরা। এটা কি প্রেম? নাকি এই আবেগের গভীরে লুকিয়ে থাকা এক নীরব তপস্যা?
আমার মনে হয়, বৃষ্টির এই ধারা কোনো ঋতু নয়—এটা এক অনন্ত প্রতীক্ষা। প্রতীক্ষা সেই ভালোবাসার, যা সময়-জাগতিকতার ঊর্ধ্বে; যেখানে তুমি আসবে না জেনেও আমি অপেক্ষা করি। প্রতীক্ষার এই দর্শন আমাকে শিখিয়েছে—ভালোবাসা আসলে চাওয়া নয়, পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাও নয়—এ এক নিঃশর্ত অস্তিত্বের অনুভব।
আজকের এই বৃষ্টিময় নিঃসঙ্গতায় তুমি ছিলে আমার সর্বত্র। কাজের মাঝখানে, চায়ের কাপের ধোঁয়ায়, জানালার কাঁচে জমা জলবিন্দুতে, এমনকি নিঃশ্বাসের ফাঁকে ফাঁকে। তোমাকে ভাবতে ভাবতে আমি যেন নিজেকে হারিয়ে ফেলেছি—তবু এ হারানো নয়, বরং নিজেকে নতুন করে খুঁজে পাওয়া।
প্রেমকে যদি আত্মার এক স্মৃতিমূলক পুনর্মিলন বলা হয়, তবে তুমি আমার সেই চিরচেনা আত্মার অংশ—যাকে আমি প্রতিটি জন্মে খুঁজেছি, আর প্রতিটি বৃষ্টির দিনে ছুঁয়ে ছুঁয়ে ফিরেছি।
তুমি হয়তো থাকবে না কখনো, তবু আমার হৃদয়ে তুমি প্রতিটি নিঃশব্দ বৃষ্টির মতোই বিরাজমান। ভালোবাসা এখানে শুধু অনুভব নয়, এটা অস্তিত্বের প্রতিধ্বনি—যেখানে প্রেম আর প্রেমিক আলাদা থাকে না, মিলেমিশে যায় এক অলৌকিক নিরবতায়।

