চুয়াডাঙ্গা শহরে অবৈধ উপায়ে খাদ্যসামগ্রী তৈরি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তা সংরক্ষণের দায়ে ‘ঢাকা বিরিয়ানি হাউজ’ নামের একটি খাবার দোকানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। সোমবার (২৬ অক্টোবর) শহরের সদর হাসপাতাল সড়কে পরিচালিত এক অভিযানে এ জরিমানা আদায় করা হয়।
ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত শহরের কলেজ রোড, হাসপাতাল রোড ও শহীদ আবুল কাশেম রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় এক বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে গ্যাস, ওষুধ, খাদ্যপণ্য ও লন্ড্রিসহ বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি করা হয়।অভিযান চলাকালে হাসপাতাল সড়কের ঢাকা বিরিয়ানি হাউজে তল্লাশি চালিয়ে দেখা যায়, ফ্রিজের ভেতরে কাঁচা ও রান্না করা মাংস কোনো রকম ঢাকনা ছাড়াই খোলা অবস্থায় একসঙ্গে রাখা হয়েছে।
একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রির জন্য বাসি খাবার মজুত করে রাখা হয়েছিল। এই অপরাধে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো. আবিল শরীফকে প্রশাসনিক ব্যবস্থায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়।
অভিযানে চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে অবস্থানরত ভ্রাম্যমাণ খাদ্যপণ্য বিক্রেতাদের নিরাপদ ও মানসম্মত খাবার বিক্রির বিষয়ে প্রাথমিকভাবে সতর্ক করা হয়। পাশাপাশি শহরের লন্ড্রিগুলোকে গ্রাহকদের যথাযথ ও মানসম্মত সেবা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।এ ছাড়া বাজার তদারকি দল ব্যবসায়ীদের নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি, যৌক্তিক মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাবেচা এবং ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স গ্রহণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মেয়াদোত্তীর্ণ, মানহীন ও নিষিদ্ধ পণ্য, নকল ওষুধ ও শিশুখাদ্য বিক্রি না করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
এ সময় কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রতিনিধি মো. রফিকুল ইসলাম এবং জেলা পুলিশের একটি দল শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় ও সার্বিক সহযোগিতায় নিয়োজিত ছিল।
অভিযান শেষে সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান জানান, ভোক্তাদের অধিকার রক্ষা এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে জনস্বার্থে এই ধরনের কঠোর তদারকি অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।








