গাজীপুরের শ্রীপুরে নেশার টাকা না দেওয়ায় মো. আব্দুস সামাদ (৬০) নামের এক বৃদ্ধ বাবাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর মাদকাসক্ত ছেলে আনোয়ার হোসেনের (৩৫) বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে ঘাতক ছেলে পলাতক রয়েছেন।
আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের সাইটালিয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুস সামাদ সাইটালিয়া গ্রামের মৃত গিয়াসউদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন। প্রায় প্রতিদিনই তিনি নেশার টাকার জন্য পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি করতেন এবং বাবা-মার ওপর চাপ প্রয়োগ করতেন। ঘটনার আগের রাতেও নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অহেতুক বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান তিনি। একপর্যায়ে তিনি তাঁর বাবা আব্দুস সামাদের কাছে মাদক সেবনের জন্য নগদ টাকা দাবি করেন।
বৃদ্ধ আব্দুস সামাদ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন আনোয়ার। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা তাঁকে শান্ত করার চেষ্টা করলেও তিনি আরও উগ্র হয়ে যান। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে আনোয়ার তাঁর বয়োবৃদ্ধ বাবার মাথা ও বুকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে শুরু করেন। শত হলেও সন্তানের বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তিহীন ওই বৃদ্ধ বাবার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালাতে থাকেন তিনি। আঘাতের তীব্রতায় গুরুতর আহত হয়ে ঘরের মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন আব্দুস সামাদ।
পরবর্তীতে পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। দ্রুত সেখানে নেওয়ার পর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আব্দুস সামাদকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এদিকে একমাত্র সন্তান কর্তৃক নিজের পিতাকে এভাবে পিটিয়ে হত্যার খবরে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন গা ঢাকা দিয়েছেন এবং বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কালিয়াকৈর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. শফিকুল ইসলামসহ শ্রীপুর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলাম জানান, পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। পলাতক অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেনকে গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।








