# শিশু ওয়ার্ড বেড ৪৫,
# রোগী ভর্তি ৩০০,
# রোগী অভিভাবকদের অভিযোগ অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতিতে ভরা ২৫০ সয্যা সদর হাসপাতাল নিজেই দূরারোগ্য বাধিতে আক্রান্ত
মাগুরা ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতাল এর বেহাল দশা রোগী পর্যাপ্ত চিকিৎসাক শূন্যতা, হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা দুর্বল প্রশাসনিক কর্মকর্তা থাকলেও হাসপাতাল এর পরিচালনার ক্ষেত্রে তাদের সময় নাই। আমাদের প্রতিনিধি লিটন ঘোষ, ২৮ অক্টোবর ও ২৯ অক্টোবর দুই দিন প্রথম ফ্লোর থেকে পঞ্চম ফ্লোর পর্যন্ত বেড ২৫০ সয্যা হলেও রোগীর সংখ্যা চার শতর উপরে হামের ওয়ার্ডে যে বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা রোগীদের স্বজনদের নিকট চিকিৎসা ও ঔষধ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বেশির ভাগ রোগীর অভিভাবকদের অভিযোগ ২৫০ সয্যা হাসপাতালের পরিছন্নতার অভাব সংক্রামক রোগী পাশাপাশি থাকাতে অন্যদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে।
ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালের ভিতরের দৃশ্য দেখলে বুঝা যাবে ব্যাটারি চালিত অটোর গ্যারেজ গেটের দু’ধারে অবৈধ স্থাপনায় ভরা, জরুর সংকটাপন্ন রোগী ভিতরে প্রবেশ করা এবং ভিতর থেকে বাইরে যাওয়া পথ থাকে অবৈধ অটোরিকশা রিক্সা মোটরসাইকেল সহ অবৈধ দোকানে ভরা। ছোট্ট এই জেলা শহরের অন্য জায়গা থেকে ২৫০ শয্যা হাসপাতাল চত্বর অবৈধ দখলদারদের অভয়ারণ্য , হাসপাতলে ফার্মেসিতে সকল ধরনের ঔষধ থাকার কথা থাকলেও পাওয়া যায় প্যারাসিটামল, বাচ্চাদের সিরাপ দু চার রকম স্যালাইন, আল্ট্রাসনো মেশিন ভালো থাকলেও ২৫টের বেশি আল্ট্রাসনো করা হয় না, ব্লাডের টিজি সহ একাধিক টেস্ট নির্ধারিত প্রাইভেট হাসপাতাল থেকে করে আনতে হয়, সরকার জনগণের ট্যাক্সের টাকায় কোটি কোটি টাকা চিকিৎসক ও রোগীদের দেয়ার জন্য পর্যাপ্ত ঔষধ সরবরাহ করলেও আমাদের গ্রামাঞ্চল থেকে আশা কৃষক দিনমজুর রোগীদেরকে বাইরে থেকেই বিভিন্ন প্রকার টেস্ট ঔষধ ইনজেকশন কিনে এনে চিকিৎসা নিতে হয়, তাহলে জনসাধারণের ট্যাক্সের কোটি কোটি টাকা সরকার গরীব দুঃখী মেহনতী মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত ঔষধ সহ যাবতীয় অর্থ যাচ্ছে কোথায়, রোগীদের অভিভাবকদের অভিযোগ সরকার কেন চিকিৎসা ব্যবস্থাকে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দুষ্কৃতিকারীদের ধরে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে হাসপাতাল চত্বর থেকে প্রাইভেট হাসপাতাল সরানোর উদ্যোগ নিচ্ছে না।
ইতিমধ্যে সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছে এবং বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশনা দিয়েছে হসপিটাল চত্বরে কোন প্রাইভেট হাসপাতাল থাকবে না কোন ডায়়াগনস্টিক সেন্টার সরানো হচ্ছে না। জিনিস, ঔষুধের স্বল্পতা, চিকিৎসক স্বল্পতা, বেড নেই, নিম্নমানের খাবার যাহা অধিকাংশ রোগীরাই বাড়ি থেকে খাবারের এনে খাায় এ যেন বাড়ির ডাইনিং রুম। হামের ওয়ার্ডের কর্তব্যরত সিনিয়ার স্টাফনার্স ঝরনা প্রামাণিক জানান শিশুদের সমস্যা বেশি হইলে শিশু ওয়ার্ডের চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া হয়।
উক্ত ওয়ার্ডে নির্ধারিত চিকিৎসক ডাক্তার এহসানুল হক মাসুম এসে দেখে যান। চিকিৎসকের রুমে দুইজন চিকিৎসকের নেম প্লেট থাকলেও রুমে তালা মারা। স্টাফ নার্স ঝরনা প্রামানিক জানান ওনারা আসেন নাই তাদের একজনের নাম ডাক্তার নাসিম উদ্দিন ও ডাক্তার দীপাঞ্জন সাহা। তিনি আরো জানান এন্টানি নার্স দিয়ে কোন রকম কার্যক্রম চালাচ্ছি। রোগীদের অভিভাবক বৃন্দ একজন রোগীর সাথে ৫ থেকে ৬ জন এসে বিশৃঙ্খলা করছে যার জন্য পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। আমরা কিছু বলতে গেলে উল্টা আমাদেরকে ধমক দেয় কেও আবার খারাপ আচরণ করে আবার কেউ কেউ বলে সিস্টার ভালো না।
এদের ব্যবহার খারাপ অথচ হাম সংক্রামক রোগ একজন থেকে একাধিক ব্যক্তির হতে পারে কিন্তু কিছু করার নাই, উর্ধোতন কর্তৃপক্ষের নিকট এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শুনেছি কার্ড সিস্টেম করবে, কবে করবে বলতে পারছি না তবে সিস্টেম করলে ভাইরাস রোগ একজনের থেকে আর একজনের ছড়াতো কম। ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ব্যবস্থাপক ডাক্তার মহসীন উদ্দিন ফকির এর কার্যালয়ে না পেয়ে মুঠোফোন যোগাযোগ করলে, তিনি ব্যস্ত আছেন, আর এম ও নিকট বক্তব্য নিতে বলেন প্রথম ফ্লোর গিয়ে দেখি উনার রুমে তালা উনি চলে গিয়েছেন তখন সময় ২:১৫ মিনিট এরপর জরুরী বিভাগে এসে এই প্রতিবেদক দেখেন রোগীদের লম্বা লাইন জরুরী বিভাগের ডাক্তার রুমে নাই।
তিনি তার বিশ্রামাগারে আসেন কিছুক্ষণ পর তিনি আসলেন ভীড় কিছুটা কমলে তার কাছ থেকে কিছু তথ্য জানতে চাইলে তিনি বললেন বিভিন্ন শ্রেণীর রোগী ভর্তি হচ্ছে তার মধ্যে ঠান্ডা জ্বর, বুকে ব্যথা, এক্সিডেন্ট, বাচ্চাদের ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট, টাইফয়েড হাম সহ বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রোগী এবং রোগীর অভিভাবক বৃন্দ এসে ভীড় করছে। জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত সিস্টারদের নিকট জানতে চাইলে তাদের খাতা দেখে বললেন সকাল আটটার পর থেকে ৪৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছে বেলা দুটো পর্যন্ত।
শিশু ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স জানান শিশু ওয়ার্ডে এই চার তলা থেকে দ্বিতীয় তলা পর্যন্ত শিশু বেডে ৪৫টি রোগী ভর্তি আছে ৩০০ টি এর মধ্যে ডায়রিয়া, পাতলা পায়খানা ঠান্ডা জ্বর রোগী বেশি। শিশু কার্ডের শিশুদের মা ও অভিভাবকদের অভিযোগ অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ খারাপ ঔষধের স্বল্পতা বাইরে থেকে ঔষুধ কিনতে হয়। ব্লাড টেস্ট বা আল্ট্রাসনোগ্রাফির টিজি ইত্যাদি বাইরে থেকে করতে হয়। রোগ এবং রোগীদের স্বজনরা অভিযোগ করেন ২৫০ শয্যা হাসপাতাল এর চিকিৎসা আগে দরকার এখানে দালালের দৌরাতে, সহ ২৫০ শয্যা আধুনিক হাসপাতাল সংলগ্ন ক্লিনিক গুলো হাসপাতালের থেকেও তাদের ব্যস্ততা বেশি হাসপাতালের রোগীদের সার্জারি বিষয় হইলেই ক্লিনিকে যেতে বলে হাসপাতালে লাইন মেলে না অথচ ২৮ তারিখ ২৫০ শয্যা হাসপাতালের ওটি তে চিকিৎসক বা রোগী দেখা পাওয়া যাইবি প্রতিবেদক লিটন ঘোষের ক্যামেরায়।
২৯ এ অক্টোবর বেলা ২ঃ৩০ মিনিটে ব্যবস্থাপক ডা: মহসিন উদ্দিন ফকির কে মুঠো ফোনে প্রতিবেদক লিটন ঘোষ পরিচয় দিয়ে হাম ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার জন্য তার সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি বিরক্ত হন এবং বলেন আপনাকে তো বলেই দিয়েছি আর এম ওর সাথে কথা বলতে, প্রতিবেদক লিটন ঘোষ বলেন আরএম রুমে তালা আপনি একটু সময় দিন ছেলেটার উত্তর না দিয়েই ফোন রেখে দেন। চিকিৎসা সেবা মহান সেবা দেশের চিকিৎসা সেবাকে, উন্নত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মহোদয়ের ঘোষণা চিকিৎসা সেবা দুই বছরের মধ্যে উন্নত করা হবে বাংলাদেশের সব ধরনের রোগী দেশেই সেবা পাবে ভারতে যেতে হবে না।
আমাদের মেডিকেল কলেজ হয়েছে ২০১৮ সাল এখান থেকে পড়াশোনা করে এমবিবিএস কমপ্লিট করেছে ইতিমধ্যে এক থেকে দুইটি ব্যাচ অথচ মাননীয় সংস্কৃতি মন্ত্রী বাবু নিতাই রায় চৌধুরী ও মাগুরা এক আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মনোয়ার হোসেন খান মাঝে মধ্যেই ২৫০ সয্যা আধুনিক হাসপাতাল পরিদর্শন করেন এবং কিডনি রোগীদের ডায়ালোসিস বেডের ব্যবস্থা করবেন আইসিউ রুম থাকলেও বেড নেই চিকিৎসক নেই এ ব্যবস্থা সু নিশ্চিত নিশ্চয়তা দিয়েছেন অল্প দিনের মধ্যেই আইসিউ চালু হবে। ২৫০ সয্যা আধুনিক হাসপাতাল নিজেই অব্যবস্থার জন্য দুরারোগ্য ব্যাধিতে ভুগছে এর রোগ সারাবে এ নিয়ে মাগুরা সচেতন নাগরিক মহলের অভিমত।








