পবিত্র কুরআনের শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়া এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে কুরআন শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে কুরআন কাফেলার শিক্ষার্থীদের মাঝে পবিত্র কুরআন শরীফ বিতরণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার সকালে উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের জরমনদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কুরআন কাফেলার হুজুর মোঃ নাছির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে পবিত্র কুরআন শরীফ তুলে দেওয়া হয়। এ সময় কুরআন শিক্ষার গুরুত্ব, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ব্যক্তি জীবনে পবিত্র কুরআনের শিক্ষা বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তালুক সর্বানন্দ খাদেম ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার ও জরমনদী মুন্সিটারী জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মোঃ আকবর আলী, জরমনদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ মঞ্জু মিয়া, দহবন্দ ইউনিয়নের সার ডিলার মোঃ বিপ্লব মিয়া, সুন্দরগঞ্জ মডেল প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ ও সাংবাদিক মোঃ হযরত বেল্লাল, বাংলাদেশ দপ্তরী কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সুন্দরগঞ্জ উপজেলা শাখার আহ্বায়ক মোঃ হামিদুল ইসলাম, দহবন্দ ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আতোয়ার রহমান, মালা স্টুডিওর স্বত্বাধিকারী আলহাজ্ব মোঃ আব্দুল খালেক এবং ইউনিক ফ্যাশানের স্বত্বাধিকারী মোঃ সোহরাব হোসেন।
এছাড়াও কুরআন কাফেলার শিক্ষার্থী মোঃ নুরুল হুদা, মোঃ আব্দুস ছালাম, মোঃ মামুন মিয়া, মোনারুল ইসলাম, তমিজ বিডিআরসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সুধীজন ও কুরআন কাফেলার শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
কুরআন কাফেলার হুজুর মোঃ নাছির উদ্দিন বলেন, কুরআন কাফেলার একটি বিশেষ স্লোগান রয়েছে ‘শিখব, শিখাব’। এ স্লোগানকে সামনে রেখে কাফেলার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এখানে শুধু কুরআন পড়া শেখানোই নয়, বরং হাতে-কলমে কুরআন শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের লেখার প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, একজন ব্যক্তি নিজে কুরআন শিখে অন্যদেরও শেখাতে সক্ষম হবেন।
তিনি আরও বলেন, কুরআন শিক্ষার কোনো বয়স নেই। শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ বয়সের নারী-পুরুষ পর্যন্ত সবাই এ কাফেলার মাধ্যমে পবিত্র কুরআন শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। সমাজের প্রতিটি ঘরে কুরআনের শিক্ষা পৌঁছে দেওয়া এবং মানুষকে কুরআন পড়া ও শেখানোর কাজে সম্পৃক্ত করাই তাদের প্রচেষ্টা। একজন মানুষ নিজে শিখবেন, পাশাপাশি অন্যকে শেখাবেন এভাবেই কুরআনের শিক্ষা ছড়িয়ে পড়বে সমাজের সর্বস্তরে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা পবিত্র কুরআন শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, নৈতিক ও আদর্শ সমাজ গঠনে ধর্মীয় শিক্ষার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছোটবেলা থেকেই শিশুদের কুরআন শিক্ষায় আগ্রহী করে তোলার পাশাপাশি বয়স্কদেরও কুরআন শেখার সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। এ ধরনের উদ্যোগ মানুষের মধ্যে ধর্মীয় সচেতনতা ও নৈতিক মূল্যবোধ বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
পরে পবিত্র কুরআন শিক্ষার প্রসার, দেশ ও জাতির কল্যাণ, মুসলিম উম্মাহর শান্তি এবং সবার সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।








