শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে মদিনা থেকে জেদ্দা ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন নারী-শিশুসহ সাত বাংলাদেশি। স্বজনদের সঙ্গে মদিনা থেকে জেদ্দার পথে যাত্রা শুরু করলেও বাসায় আর ফেরা হলো না তাঁদের। নিহতদের সবাই কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বাসিন্দা। তাদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে।
জানা যায়, বাংলাদেশিদের বহনকারী একটি বাসকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয় একটি ট্রাক; তাতে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। হিমায়িত সামুদ্রিক খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আল-আবির কোল্ডস্টোরের দুই কর্মী ও তাদের চার স্বজন এ দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। নিহত অপর ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মীর স্ত্রী।
নিহতরা হলেন, আল-আবির কোল্ডস্টোরের স্টোরকিপার জিয়াউর রহমান এবং তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। স্টোরকিপার আলমশাহ ও তার এক মাস বয়সী মেয়ে এবং ড্রাইভার ইলিয়াসের স্ত্রীও এ দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।
প্রতিষ্ঠানটির মার্কেটিং ম্যানেজার নুরুজ্জামান জানান, তারা একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে মদিনা থেকে জেদ্দার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। পথে মরুভূমির দীর্ঘ মহাসড়কে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে গাড়িতে থাকা সাতজনেরই মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সৌদি প্রবাসী চকরিয়া উপজেলার বাসিন্দা আব্দুরাজ্জাক বলেন, ‘আমরা কাজ শেষ করে মদিনা থেকে রাত আনুমানিক ২টার দিকে বাসায় ফিরছিলাম। আমরা যেখানে গাড়ি থেকে নামি সেখানে দেখি একটি গাড়ি অ্যাক্সিডেন্ট হয়ে পড়ে আছে। ঘটনাস্থলেই কয়েকজন মারা গেছে। পরে খবর নিয়ে জানলাম তারা আমাদের এলাকার মানুষ।’
দুর্ঘটনার পর সৌদি আরবের স্থানীয় পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত সাত বাংলাদেশির মরদেহ মদিনার স্থানীয় একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আহত ব্যক্তিদেরও ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার সমকালকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে নিহতদের নামগুলো পাওয়া গেছে। তাদের বাসার ঠিকানা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি।’
ইউএনও বলেন, ‘মনে হচ্ছে নিহতরা দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। তাই দ্রুত চকরিয়ায় তাদের ঠিকানা পাওয়া যাচ্ছে না।’








