নাটোরে বড়াইগ্রামে যাত্রীবাহী বাসের সাথে বালুভর্তি একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, শরীয়তপুরের জাজিরার ডুবিসাইবর গ্রামের আরব আলীর ছেলে সামাদ ফকির (৭০), জাহান উদ্দিন মোল্লার ছেলে শালাল মোল্লা (৪১) এবং ইউনুস শিকদারের ছেলে সোহাগ (৩০), একই উপজেলার পালের চর গ্রামের রাজ্জাক বেপারীর ছেলে শাহিন (৩২), রামকৃষ্ণপুর গ্রামের জহুর উদ্দিনের ছেলে জুয়েল (৪০), রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ফরহাদপুর গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে ও বাসচালক সোহেল রানা (৪০), বাগমারা উপজেলার কনোপাড়া গ্রামের বাবর আলীর ছেলে আনোয়ার হক (৩০) , পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী গ্রামের মৃত শহিদুল ইসলামের মেয়ে তাছফিয়া খাতুন (৮), তাথফিয়ার বাবা আজাহার হাওলাদারের ছেলে শহীদুল ইসলাম(৪৫), ঝিনাইদহ সদরের মান্দারবাড়িয়ার জাকির হোসেনের ছেলে ট্রাকচালক আবুল কালাম(৫৬)।
নওগাঁর শান্তাহারের সাজ্জাদ আলীর ছেলে রাসেল আলী (৩৩), ফরিদপুর সদরের বাখনদিয়া এলাকার ওমর কুমার জমাদারের ছেলে হিমেজ জমাদার (৩৫)।
খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা নিহতদের লাশ উদ্ধার করে বনপাড়া হাইওয়ে থানায় নেয়। আহতদের নাটোর ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বড়াইগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দের এসআই মো. শামীম হোসেন বলেন, আরপি পরিবহনের ওই বাসটি বরগুনা থেকে যাত্রী নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ যাচ্ছিল। ট্রাকটি পঞ্চগড় থেকে বালু লোড করে ঝিনাইদহ যাচ্ছিল। পথে বনপাড়া-পাবনা মহাসড়কের বড়াইগ্রামের বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে এলাকায় পৌঁছালে মঙ্গলবার ভোর চারটার দিকে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থলে ০৯ জনের মৃত্যু হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর আরো তিনজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন।
তিনি আরও জানান, ট্রাকটি মহাসড়কের বামপাশের লেন ধরেই যাচ্ছিল। কিন্তু বেপরোয়া গতির ওই বাসটি ওভারটেকিং করতে গিয়ে ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুই পরিবহনের চালকই মারা গেছেন। নিহতদের মধ্যে এক শিশু থাকলেও সবাই পুরুষ।
দূর্ঘটনার পরপরই জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নাটোর-০৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আজিজ, জেলা প্রাশাসক সুমনী আক্তার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ৭ সদস্যদের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
হুইপ দুলু বলেন, দুর্ঘটনায় নিহতের প্রতিটি পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ১ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। তাছাড়া দুর্ঘটনা রোধে পাবনা-বনপাড়া মহাসড়কটি প্রশস্ত করার উদ্যেগ নেয়া হবে।
বনপাড়া হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক ( এসআই) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, লাশগুলো উদ্ধার করে হাইওয়ে থানায় নেওয়া হয়। এরমধ্যে ১২ জনেরই নাম পরিচয় পাওয়া গেছে। লাশগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নাটোর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা আব্দুর রউফ বলেন, ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু করেন তারা। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিক, হাসপাতাল, নাটোর সদর হাসপাতাল ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম জানান, নাটোরের বনপাড়ায় বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হয়েছে, তথ্যগত ভুলের কারণে প্রথমে ১৪ জনের প্রাণহানির কথা বলা হয়েছিলো। নিহত সকলের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।








