শিরোনাম
খাদ্যপণ্যের ‘সিন্ডিকেট’ বলে কোন শব্দ থাকবে না : নারায়ণগঞ্জে খাদ্যমন্ত্রীনারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির বার ভবনে বিএনপির আইনজীবীদের হাতাহাতিপ্রতিভা বিকাশের সুযোগ দিতে হবে শিশুদের: প্রধানমন্ত্রীমেট্রোর লাইনে কুকুরআবারও আদালত থেকে পালালেন আসামিশ্রীমঙ্গল ভাড়াউড়া ফুটবল মাঠ পরিদর্শন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীরগণভোটের ব্যবস্থা রাখা হবে সংবিধান সংশোধনের পর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদশম গ্রেডে বেতন পাবেন প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকরাআবেগঘন বার্তা দিলেন মেসিবাধা কাটল সাড়ে ১৩ হাজার অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ নিয়োগেসেরা রিপোর্ট খুঁজছে নগদ-ডিআরইউবাবরি মসজিদের মূল উদ্যোক্তা গ্রেপ্তাার

নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির বার ভবনে বিএনপির আইনজীবীদের হাতাহাতি

প্রকাশ:
পড়তে সময় লাগবে ৩ মিনিটপড়া হয়েছে ০ বার

নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির (বার) ভবনে বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের দু’টি পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেল আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবীরা। পরে আদালতপাড়ায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন।

এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানও লাঞ্ছিত হন। জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর আবুল কালাম আজাদ জাকির ও অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক নয়নসহ উভয়পক্ষের কয়েকজন আহতও হন। তারা স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

উভয়পক্ষের আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জেলা আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আদালতপাড়ায় বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের মধ্যে দু’টি গ্রুপ সৃষ্টি হয়েছে। আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচএম আনোয়ার প্রধান ও পিপি আবুল কালাম আজাদ জাকির একটি গ্রুপের নেতৃত্বে আছেন, অন্যদিকে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান এবং সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ন কবির অপর গ্রুপে আছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবী ও সাংবাদিকরা বলেন, দুইপক্ষের আইনজীবীরা আদালতপাড়ায় আইনজীবী সমিতির ভবনের দ্বিতীয় তলায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পাশাপাশি কক্ষে দুপুরের খাবার খেতে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তাদের মধ্যে আগে থেকেই উত্তেজনা ছিল। আসন্ন নির্বাচন, আওয়ামী সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপির দায়িত্ব গ্রহণ নিয়ে আপত্তি এবং ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের স্থানান্তর নিয়ে উভয়পক্ষের আলোচনার এক পর্যায়ে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। যা পরে হাতাহাতিতে রূপ নেয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, তরুণ ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা দুইপক্ষে বিভক্ত হয়ে একে-অপরকে কিল-ঘুষি মারছেন। বিশৃঙ্খলার সময় নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেনকে রক্ষা করতে তার দেহরক্ষী পুলিশ সদস্যকেও বেগ পেতে দেখা যায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, “সামনে তো আইনজীবী সমিতির নির্বাচন। এ নিয়ে দু’টি পক্ষের মধ্যে বাক-বিতন্ডার মতো ঘটনা ঘটেছে। আমরা পুলিশ সদস্যরা গিয়ে পরে পরিস্থিতি সামাল দেই। তারা শিক্ষিত আইনজীবী, তাদের বোঝানো হলে ঘটনা আর বেশি বাড়েনি।”

আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার প্রধান পরে সাংবাদিকদের বলেন, সাখাওয়াত হোসেন ও তার অনুসারীরা তাদের দিকে তেড়ে এসে হামলা চালায়।

“সাখাওয়াত তার লোকজন নিয়ে আমাদের গালিগালাজ করেন। এডিশনাল পিপি ওমর ফারুক নয়নকে মারধর করেন। পরে আমরা প্রতিবাদস্বরূপ তাদের এক ঘন্টারও বেশি সময় অবরুদ্ধ করে রাখি,” বলেন আনোয়ার।

অন্যদিকে, সমিতির সভাপতি সরকার হুমায়ূন কবির বলেন, “সাখাওয়াত হোসেনসহ অন্যরা আমার রুমে খাওয়া-দাওয়া করছিলাম। পাশের রুম থেকে সেক্রেটারির লোকজন উসকানিমূলক ‘বাজে আওয়াজ’ দিচ্ছিলো। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। আমার মনে হয়, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই হয়তো ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে। তাদের চেয়ে আমরা সবাই সিনিয়র। সিনিয়রদের সঙ্গে জুনিয়ররা এভাবে আচরণ করবে, এটা ঠিক নয়।”

এ বিষয়ে নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেনের মন্তব্য জানতে তার মুঠোফোনের নম্বরে কল করা হলে অপরপ্রান্তে একজন জানান, তিনি বিশ্রামে আছেন।

সম্পর্কিত সংবাদ

এই বিভাগের আরও সংবাদ