চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে অবৈধভাবে মজুদের দায়ে জব্দ করা ৯১২ বস্তা সার অবশেষে পৌঁছেছে প্রকৃত কৃষকদের হাতে। আদালতের নির্দেশনায় সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সরাসরি ‘কৃষক কার্ড’ ব্যবহার করে স্বচ্ছতার সঙ্গে এই সার বিক্রি করা হয়েছে।আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে জীবননগর থানা চত্বর ও হাসাদাহ পুলিশ ক্যাম্প চত্বরে একযোগে এই সার বিক্রি কার্যক্রম শুরু হয়। জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখের নেতৃত্বে ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেনের প্রত্যক্ষ তদারকিতে শান্তিপূর্ণভাবে সার বিতরণ করা হয়।
যেভাবে জব্দ হয়েছিল এই সার:
উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর জীবননগরের দত্তনগর সড়কের ‘মেসার্স শান্তনা এন্টারপ্রাইজ’-এ অভিযান চালান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি। ভ্রাম্যমাণ আদালতের সেই অভিযানে অবৈধভাবে মজুদ করা ৪০০ বস্তা সরকারি ডিএপি সার জব্দ করা হয় এবং প্রতিষ্ঠানের মালিক আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
এর পরদিনই (২৬ সেপ্টেম্বর) হাসাদাহ বাজারে জীবননগর থানার ওসি সোলায়মান শেখের নেতৃত্বে আরেকটি সফল অভিযান পরিচালিত হয়। সেখান থেকে ‘মেসার্স তৌফিক ট্রেডার্স’ এর স্বত্বাধিকারী মো. আব্দুল খালেককে আটকসহ আরও ৫১২ বস্তা সার জব্দ করে পুলিশ। জব্দকৃত সারের মধ্যে ছিল ৪৫ বস্তা ইউরিয়া, ৩৫০ বস্তা ডিএপি, ৭৮ বস্তা টিএসপি এবং ৩৯ বস্তা এমওপি সার।
ন্যায্য মূল্যে সার পেয়ে খুশি কৃষকেরা:
আদালতের বিশেষ নির্দেশনায় দুই দফায় জব্দ হওয়া মোট ৯১২ বস্তা সার আজ সাধারণ কৃষকদের মাঝে উন্মুক্ত বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কালোবাজারি রোধে প্রতি কৃষকের কাছে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ১ হাজার ৫০ টাকা সরকারি দরে ১ বস্তা করে সার বিক্রি করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন পর ন্যায্য মূল্যে সার কিনতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় চাষিরা। সার কিনতে আসা কৃষক জমশেদ আলী উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ১ হাজার ৫০ টাকায় এক বস্তা ডিএপি সার কিনলাম। এখানে কোনো রকম ঝামেলা বা অতিরিক্ত টাকা ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে সার দেওয়া হচ্ছে। সঠিক সময়ে সার পেয়ে আমি অনেক খুশি।”জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, “আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে কৃষকদের মাঝে সার বিক্রি করা হচ্ছে।
সকাল থেকেই অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কৃষকেরা সার সংগ্রহ করছেন।”জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, “অবৈধভাবে মজুদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আদালতের নির্দেশে জব্দকৃত সার সরকারি নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এবং সার বিক্রির সম্পূর্ণ অর্থ নিয়ম অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।”







