শিরোনাম
বিচারকের কাছে পলকের ক্ষোভসিলেটের বিশ্বনাথ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারিবিশ্বসেরা বিজ্ঞানীর তালিকায় চবির ৭ শিক্ষকচুয়াডাঙ্গায় জব্দকৃত ৯১২ বস্তা সার কৃষকদের মাঝে বিক্রি: মুখে হাসি প্রান্তিক চাষিদেরবিশ্বজুড়ে তীব্র হচ্ছে এল নিনো, সতর্কবার্তা জাতিসংঘেরইউক্রেনে ভয়াবহ হামলা, নিহত ৩২কাতারের উত্তর উপকূলে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলাপায়ুপথে মিললো ৩ সোনার ডিমচলতি বছরেই গঙ্গা চুক্তি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে আগারগাঁওয়ে বিক্ষোভ : লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে পুলিশসংস্কৃতি মন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় মহম্মদপুরের চুড়ারগাতী গ্রামে মধুমতির নদীভাঙন এলাকা পরিদর্শন করলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাবিদ্যালয়সংলগ্ন ফুটপাত দখলমুক্ত করার ঘোষণা দিলেন মেয়র

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইসলামের নীতিমালা

প্রকাশ:
পড়তে সময় লাগবে ৪ মিনিটপড়া হয়েছে ০ বার

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন আর শুধু মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার মাধ্যম নয়। এখান থেকেই আমরা খবর পড়ি, কেনাকাটা করি, বিভিন্ন বিষয় শিখি, অবসর কাটাই এবং বিশ্ব সম্পর্কে নানা ধরনের মতামত তৈরি করি। আমরা কী পছন্দ করছি, কোথায় মন্তব্য করছি, কী খুঁজছি এবং কোন ধরনের কনটেন্ট কতক্ষণ দেখছি এসবের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সময়ে আমাদের ফিডে কী ধরনের পোস্ট দেখানো হবে, সেটিও নির্ধারিত হয়। অনলাইনে আমরা যা দেখি এবং যেসব কনটেন্টের সঙ্গে যুক্ত হই, তা অন্য মানুষ, নিজেদের এবং আমাদের চারপাশের পৃথিবী সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবিত করতে পারে।

ইসলাম আমাদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নির্দিষ্ট কোনো প্ল্যাটফর্মভিত্তিক নিয়ম দেয়নি। তবে জ্ঞান, সময়, অন্তর এবং পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়ে কিছু নীতি দিয়েছে। এমন পাঁচটি নীতি এবং বাস্তব জীবনে সেগুলো কীভাবে প্রয়োগ করা যায়, তা তুলে ধরা হলো-

বিশ্বাস বা শেয়ারের আগে তথ্য যাচাই করুন

কোনো বিষয় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে তা সত্য ধরে নেওয়া সহজ। কিন্তু কোনো তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেই তা সেই সংবাদরে সত্যতা প্রমাণ করে না। যাচাই করার আগে শেয়ার করার কারণে গুজব, প্রতারণামূলক তথ্য কিংবা অনলাইনে কাউকে ঘিরে ব্যাপক আক্রমণও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বা এআইয়ের ব্যবহার বাড়ায় অনলাইনে পাওয়া তথ্য যাচাই করা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই কৃত্রিম ছবি তৈরি, কণ্ঠস্বর নকল এবং ভুয়া স্ক্রিনশট তৈরি করা সম্ভব। এআই চ্যাটবটও আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে এমন উত্তর দিতে পারে, যা আসলে ভুল।

এআই বলেছে বা অনলাইনে দেখেছি, এটা কোনো সংবাদ সত্য হওয়ার প্রমাণ নয়। ইসলাম কোনো সংবাদ বা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পদক্ষেপ নেওয়ার আগে তা যাচাই করতে বলে। ইসলামের এই নীতিকে তাবাইয়ুন বলা হয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে মুমিনরা, কোনো পাপাচারী ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে এলে তা যাচাই করে দেখো, যাতে অজ্ঞতাবশত তোমরা কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি করে না বসো এবং পরে নিজেদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত না হও। (সুরা হুজুরাত, আয়াত: ৬)

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত স্ক্রলিং থেকে সাবধান

ডুমস্ক্রলিং বলতে বোঝায়, কোনো কনটেন্ট উপকারী বা উপভোগ্য না হলেও দীর্ঘ সময় ধরে স্ক্রল করতে থাকা। এর মধ্যে থাকতে পারে নেতিবাচক খবর, মন্তব্যের ঘরে চলতে থাকা তর্ক কিংবা এমন সব ভিডিও, যা পরদিন আমাদের মনেই থাকবে না। বিশেষ করে গভীর রাত পর্যন্ত দীর্ঘ সময় স্ক্রল করলে ক্লান্তি, মনোযোগের ঘাটতি কিংবা মানসিকভাবে অবসাদগ্রস্ত বোধ হতে পারে। ফিড যেন শেষ হওয়ার নয়, কিন্তু কখন সরে আসতে হবে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আমাদের রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, দুটি নিয়ামতের ব্যাপারে অধিকাংশ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। ১. সুস্থতা। ২. অবসর সময়। (সহিহ বুখারি)

কেন স্ক্রল করছেন, উদ্দেশ্য ঠিক করুন

আমরা যত বেশি অ্যাকাউন্ট ও পেজ অনুসরণ করি, আমাদের ফিডে তত বেশি বৈচিত্র্যময় কনটেন্ট আসে এবং মনোযোগ ধরে রাখা তত কঠিন হয়। একটি পোস্ট ভালোভাবে দেখার আগেই আমাদের মন এক পোস্ট থেকে আরেক পোস্টে চলে যায়। সময়ের সঙ্গে আমরা ছোট ও দৃষ্টি আকর্ষণকারী কনটেন্টে অভ্যস্ত হয়ে পড়ি এবং গভীরভাবে চিন্তা করতে হয় এমন বিষয়গুলোর প্রতি ধৈর্য হারাতে থাকি। ইসলামে প্রতিটি কাজ নিয়ত বা উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভরশীল। অনলাইনে যাওয়ার আগে নিজের উদ্দেশ্য পরিষ্কার করে নেওয়া, এমনকি উদ্দেশ্য যদি শুধু কিছুটা বিনোদন নেওয়াও হয়, আমাদের সময়কে আরও সচেতনভাবে ব্যবহারে সহায়তা করতে পারে।

অন্তরের হেফাজত করুন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণত মানুষের জীবনের ভালো সময় ও সাফল্যের দিকগুলোই বেশি দেখা যায়। তাদের সংগ্রাম বা কঠিন সময়ের কথা সেখানে খুব কমই প্রকাশ পায়। নিজের সাধারণ দিনগুলোর সঙ্গে অন্য কারও জীবনের সেরা মুহূর্তগুলোর তুলনা করতে করতে অজান্তেই হিংসা, অনিরাপত্তা কিংবা অসন্তোষ তৈরি হতে পারে। তাই কোন বিষয়ে কখন নিজেকে জড়ানো প্রয়োজন বা প্রয়োজন নেই, তা বুঝা গুরুত্বপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, একজন মানুষের ইসলামের সৌন্দর্যের অংশ হলো, যে বিষয় তার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, তা ছেড়ে দেওয়া। (সুনান আত-তিরমিজি)

তাই প্রতিটি পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানানোর প্রয়োজন নেই। একইভাবে প্রতিটি বিতর্কেও নিজের মতামত দেওয়ার দরকার নেই। আমরা কী পোস্ট করছি, সেখানেও একই ধরনের সতর্কতা প্রয়োজন। অনলাইনে আমরা যা বলি ও শেয়ার করি, তা একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের আচরণেরই অংশ। উপকারী ও ইতিবাচক কিছু শেয়ার করা অন্যদের জন্য কল্যাণ বয়ে আনতে পারে। একই সঙ্গে নিজের জীবন ও প্রাপ্ত নেয়ামতগুলো কতটা প্রকাশ্যে তুলে ধরব, সে বিষয়েও বিচক্ষণ হওয়া প্রয়োজন।

বাস্তবতার প্রতি মনোযোগী থাকুন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু অনেক সময় অনলাইনে মনোযোগের কারণে আমাদের সামনে থাকা মানুষগুলো উপেক্ষিত হয়ে যায়। পারিবারিক কোনো অনুষ্ঠান, নিরিবিলি মুহূর্ত কিংবা অস্বস্তিকর কোনো সামাজিক পরিস্থিতিতেও আমরা নিজেদের ফিডের ডুবিয়ে রাখি। আমাদের আশপাশের মানুষ যেমন, বাবা-মা, স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান, বন্ধু ও প্রতিবেশীদেরও আমাদের ওপর অধিকার রয়েছে। তাদের সঙ্গে উপস্থিত থাকা এবং তাদের প্রতি মনোযোগ দেওয়া এসব সম্পর্ক রক্ষার একটি উপায়।

সম্পর্কিত সংবাদ