শিরোনাম
টুপটুপ রিসোর্টে আগুন: ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, নিখোঁজ নাসরিনফিজির বিপক্ষে বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয়সৌদিকে সামরিক সহায়তা দিতে মিসরের পার্লামেন্টের অনুমোদনশিল্পী-সংস্কৃতিকর্মীদের মানববন্ধনে ধানমন্ডিতে পুলিশের বাধাআরও এক জোড়া ট্রেন ঢাকা-কক্সবাজার রুটেইকরামুল কবীর ইল্টুকে আহ্বায়ক এবং শ,ম, কামাল হোসেনকে সদস্য সচিব করে ৫৬ সদস্যের, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী’র ঢাকা-১ বিভাগীয় আহ্বায়ক কমিটি গঠনমাগুরায় জেলা রাজস্ব কমিটি ও অক্টোবরের স্টাফ সভা অনুষ্ঠিতসুন্দরগঞ্জে কুকুরের কামড়ে ৪ শিশু আহতবাবা-মা ও শিক্ষকদের অবাধ্য হয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো যায় না- সেলিমুজ্জামান সেলিম এমপিরাষ্ট্রকাঠামোর মৌলিক সংস্কার ছাড়া শুধু ক্ষমতার পরিবর্তনে কোনো সুফল আসবে না : নাহিদ ইসলামসোনারগাঁয়ে ধর্মীয় স্থাপনা ও কবরস্থানের পাশে ময়লার ডাম্পিং স্টেশন প্রস্তাবের প্রতিবাদে মানববন্ধনযশোরে শার্শা উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতির সুস্থতা কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত

চিকিৎসক সংকটে ভুগছে কয়রা: প্রাথমিক সেবায় ভরসা মনোয়ার

প্রকাশ:
পড়তে সময় লাগবে ২ মিনিট

সুন্দরবনের কোলঘেঁষা উপকূলীয় উপজেলা কয়রা। যেখানে অসুস্থতা মানেই দীর্ঘ পথ পাড়ি,অর্থের টানাটানি আর চিকিৎসক না পাওয়ার আতঙ্ক। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এই জনপদে রাতের আঁধারে কেউ অসুস্থ হলে পরিবারের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে। ঠিক এমনই এক সংকটময় বাস্তবতায় কয়রার মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন কমিউনিটি প্যারামেডিক মোঃ মনোয়ার হোসেন।

কয়রা সদর ও আশপাশের নিম্ন আয়ের পরিবার, শিশু ও প্রবীণরা প্রাথমিক পরামর্শের জন্য ছুটে আসেন তাঁর কাছে। সামর্থ্যের মধ্যে থেকে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেন তিনি।

কয়রার ভ্যানচালক আবু বকর বলেন,আমার ছেলে অসুস্থ হলে তাকে মনোয়ার হোসেনের কাছে নিয়ে যাই। তিনি চিকিৎসা ও পরামর্শ দেন। পরে আমার ছেলে সুস্থ হয়ে ওঠে। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য কাছাকাছি এমন কাউকে পাওয়া অনেক উপকারের।

উপজেলার ভৌগোলিক অবস্থানই স্বাস্থ্যসেবার বড় বাধা। নদী-খাল বেষ্টিত এই এলাকা থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছানোই কঠিন। উন্নত চিকিৎসার জন্য যেতে হয় খুলনায়। একই দুর্ভোগ পোহান শ্যামনগরের গাবুরা, চাকলা ও পাতাখালীর মানুষও, যারা প্রাথমিক সেবার জন্য কয়রায় আসেন।

মনোয়ার হোসেন এমবিবিএস চিকিৎসক নন। তিনি একজন কমিউনিটি প্যারামেডিক। তাঁর কাজের ক্ষেত্র প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, পরামর্শ ও সচেতনতা তৈরি করা। জটিল রোগে নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ ও হাসপাতালে যাওয়ার গুরুত্ব রয়েছে।

তিনি শিশুস্বাস্থ্য ও পুষ্টি, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ প্রতিরোধ, নারীস্বাস্থ্য, নিরাপদ ওষুধ ব্যবহার, নাক-কান-গলা, মা ও নবজাতক এবং চোখের রোগের প্রাথমিক ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলে তাঁর নিবন্ধন নম্বর ৪৫৫৭।

এ বিষয়ে মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, “কয়রার অনেক দরিদ্র মানুষের দূরে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার সামর্থ্য নেই। রাতে কেউ অসুস্থ হলে পরিবারের দুশ্চিন্তার শেষ থাকে না। আমি আমার সামর্থ্য ও প্রশিক্ষণের মধ্যে থেকে তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করি। কেউ যেন অর্থের অভাবে প্রাথমিক পরামর্শ থেকে বঞ্চিত না হন।”

তবে একজন স্থানীয় সেবাদানকারীর উদ্যোগে পুরো সংকট মিটবে না। প্রয়োজন পর্যাপ্ত চিকিৎসক, ওষুধ, সচল অ্যাম্বুলেন্স ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মানসম্মত সেবা। কয়রাবাসীর প্রত্যাশা, সুন্দরবনের পাশে বসবাসকারী মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছাবে, আর মনোয়ারের মতো মানবিক উদ্যোগগুলো পাবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি।

সম্পর্কিত সংবাদ

এই বিভাগের আরও সংবাদ