শিরোনাম
আমলাদের একটি অংশ রাজনৈতিক প্রভুদের সেবা করতে বেশি আগ্রহীবিমানের বহরে যুক্ত হচ্ছে এয়ারবাস, ১০ উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি১৩ মাসের বাচ্চাকে ২ লাখ টাকায় বিক্রিভারতের সঙ্গে পানির হিস্যায় একচুলও ছাড় নয়: নাহিদসৌদির বিমানবন্দরে হামলায় নিহত ৩, আহত ৩৬হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক-চিকিৎসকসহ ১১১ জন ডেঙ্গু আক্রান্তঅ-মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দিতে চুলচেরা যাচাই-বাছাইগ্রাহকের টাকা আত্মসাতে ব্যাংকের ৫ কর্মকর্তা-কর্মচারী গ্রেপ্তারধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার কল্যাণে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রীশিক্ষার্থীদের জন্য ৩৪ টাকা ভাড়া নির্ধারণরূপগঞ্জে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নে অভিযানবাঁশের চাটাই বেয়ে স্কুলে যায় শিক্ষার্থীরা, ভোগান্তি

ইরান যুদ্ধে ৮১ ড্রোন-প্লেন হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ:
পড়তে সময় লাগবে ৩ মিনিটপড়া হয়েছে ০ বার

ইরানকে দ্রুত কাবু করার হিসাব ছিল যুক্তরাষ্ট্রের। কিন্তু যুদ্ধ শুরুর প্রায় আট মাস পর সেই হিসাব যেন উল্টে যেতে বসেছে। ইরানকে দমনে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য তো আসেইনি, বরং দীর্ঘ এই সংঘাত থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজতে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রকেই। এর মধ্যে দেশটির সামরিক ক্ষয়ক্ষতির হিসাবও বেশ বড় হয়ে উঠেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৮১টি সামরিক প্লেন ও ড্রোন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব সামরিক সরঞ্জামের মূল্য প্রায় ৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪০ হাজার ৫১০ কোটি টাকা।

মার্কিন কংগ্রেসের গবেষণা সংস্থা কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের (সিআরএস) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। গত সোমবার প্রকাশিত ‘ইউএস এয়ারক্রাফট কমব্যাট ড্যামেজ ইন অপারেশন এপিক ফিউরি: কনসিডারেশনস ফর কংগ্রেস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়া সামরিক সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এফ-৩৫এ, লাইটনিং টু ও এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান এবং এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন। সিআরএসের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান, একটি এফ-৩৫এ লাইটনিং টু, দুটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট টু, সাতটি কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার, একটি ই-৩ সেন্ট্রি, দুটি এমসি-১৩০জে কমান্ডো টু, একটি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ জলি গ্রিন টু এবং একটি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোন হারিয়েছে।

এর বাইরে, যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি এমকিউ-১ ড্রোন এবং ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনও ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। একই সঙ্গে, একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি হামলা হেলিকপ্টার, চারটি এএইচ-৬ লিটল বার্ড হালকা হামলা হেলিকপ্টার এবং একটি এমএইচ-৬০ সি হক সামুদ্রিক হেলিকপ্টারও হারিয়েছে মার্কিন বাহিনী। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হারানো ১২টি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের মধ্যে তিনটি ২ মার্চ কুয়েতের আকাশে নিজেদের বাহিনীর গুলিতে ভূপাতিত হয়। এর পরের মাসে ইরানের আকাশসীমায় আরেকটি এফ-১৫ই ভূপাতিত হয়।

অন্যদিকে, গত ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের বিমান হামলায় আরও অন্তত আটটি এফ-১৫ই সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি এসব যুদ্ধবিমান ও ড্রোনের দামও বেশ চড়া। প্রতিটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের মূল্য ৩ কোটি ডলারের বেশি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৬৮ কোটি টাকা। আর ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনের প্রতিটির আনুমানিক মূল্য ৩ কোটি থেকে ৫ কোটি ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৩৬৮ কোটি থেকে ৬১৪ কোটি টাকা। পঞ্চম প্রজন্মের এফ-৩৫এ যুদ্ধবিমানের মূল্য ৯ কোটি ২০ লাখ ডলারের বেশি।

বাংলাদেশি মুদ্রায় এর দাম প্রায় ১ হাজার ১২৯ কোটি টাকা। এদিকে, ই-৩ সেন্ট্রি প্লেনের প্রতিটির দাম প্রায় ২৭ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ হাজার ৩১৫ কোটি টাকা। বোয়িং ৭০৭ যাত্রীবাহী প্লেনের ভিত্তিতে তৈরি এ প্লেনটি পুরোনো হলেও মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে তাদের বহরে এ ধরনের মাত্র ৩২টি প্লেন ছিল। তবে, এ ক্ষয়ক্ষতির হিসাবই চূড়ান্ত নয় বলে জানিয়েছে সিআরএস। সংস্থাটি বলেছে, সামরিক অভিযানের কিছু তথ্য এখনো গোপন রাখা হয়েছে।

আবার কিছু ঘটনার জন্য কারা দায়ী, তা নিশ্চিত করাও কঠিন। এছাড়া, ক্ষতিগ্রস্ত কিছু প্লেন মেরামতের পর আবার ব্যবহার করা সম্ভব হতে পারে। অন্যদিকে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত অস্ত্রের খরচও বেড়েছে। কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের সর্বশেষ হিসাবে, এ খাতে ব্যয় ছিল ২১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ লাখ ৬৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। তবে, এক মাসের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে সেই ব্যয় আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের হিসাবে, এ খাতে ব্যয় বেড়ে ২৮ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা।

তবে, সিআরএসের এই প্রতিবেদন নিয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি হোয়াইট হাউস বা পেন্টাগন। সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্ট

সম্পর্কিত সংবাদ

এই বিভাগের আরও সংবাদ