মানসিক নির্যাতন সইতে না পেরে প্রবাসী স্বামীকে ভিডিও কলে রেখে এক গৃহবধূ বিষপান করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত রোববার রাতে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় গতকাল সোমবার দুপুরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আত্মহত্যার চেষ্টা করা গৃহবধূ ঝুমুর খানম সেতু (২৭) আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের উত্তর শিহিপাশা গ্রামের আব্দুল করিম খানের মেয়ে। প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর আগে সামাজিকভাবে গৌরনদী পৌর এলাকার চরগাধাতলী গ্রামের মৃত হারুন কাজীর ছেলে শাহারিয়া কাজী ওরফে শাহাবুদ্দিনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
তাদের চার বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। ঝুমুরের বাবা করিম খান অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই তার মেয়ে জামাতা, শাশুড়ি, ননদ ও ননদের স্বামী বিভিন্ন কারণে ঝুমুরকে মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন। তার মেয়ে জামাতা কুয়েতে যাওয়ার পরও নির্যাতনের মাত্রা কমেনি। বরং শাহারিয়ার মা রুনু বেগম, বোন নাজমিন বেগম, শারমিন ও রিয়া এবং নাজমিনের স্বামী সাইদুল হাওলাদারের প্ররোচনায় ঝুমুরের ওপর নির্যাতন আরও বেড়ে যায়। একপর্যায়ে ঝুমুরকে তার মেয়েসহ বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন।
করিম খান আরও অভিযোগ করেন, বিয়ের সময় পর্যাপ্ত মালামাল না দেওয়া, পাঁচ শতাধিক বরযাত্রী না আনা এবং ঝুমুর দেখতে সুন্দরী নন এমন নানা অজুহাতে শাহারিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে তাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন। করিম খানের ভাষ্য, ঘটনার দিন রাতে শাহারিয়া ভিডিও কলে ঝুমুরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে তাকে বিষপান করে মরে যেতে বলেন। এ ঘটনায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পরিবারের সদস্যদের অজান্তে রাতে বিষপান করেন ঝুমুর। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
সেখান থেকে রাতেই তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে চিকিৎসকেরা তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ঝুমুরের বাবা করিম খান। আগৈলঝাড়া থানার ওসি মোহাম্মদ মাসুদ খান বলেন, এ ঘটনায় এখনও কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ করেননি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে শাহারিয়া কাজী ওরফে শাহাবুদ্দিনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।







