শিরোনাম
বাধ্যতামূলক আইনজীবী নিয়োগ করতে হবে সব কোম্পানিকে : আইনমন্ত্রীখিলগাঁওয়ে আনসার সদর দপ্তরে ককটেল বিস্ফোরণতারাবোর পৌরসভার উত্তর মাসাবোতে পুলিশ সদস্যের পায়ের রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগভারত সফরের পারিশ্রমিক পায়নি ব্রাজিল-উরুগুয়েহাসান মাহমুদের নতুন রেকর্ডমান্দায় বাংলা কিউআর ভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও ক্যাম্পেইনপেকিন হাঁস পালনে লাখপতি সিংড়ার জাহিদখড় কেটে গোখাদ্য তৈরি, এভাবেই চলে পরিমলের জীবন-জীবিকাকালীগঞ্জে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি রাশেদ খানেরঅক্টোবরজুড়ে পাইকগাছা থানা পুলিশের অভিযান: ৪৪ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, উদ্ধার ইয়াবা-গাঁজাআলফাডাঙ্গায় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসানকে বিদায়ী সংবর্ধনাআলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সম্পাদক পদে সর্বোচ্চ ভোটে বিজয়ী তামিম আহমেদ

খড় কেটে গোখাদ্য তৈরি, এভাবেই চলে পরিমলের জীবন-জীবিকা

প্রকাশ:
পড়তে সময় লাগবে ৩ মিনিট

জীবিকার তাগিদে মানুষ নানা পেশা বেছে নেন। কেউ শ্রম বিক্রি করেন, কেউবা নিজ উদ্যোগে গড়ে তোলেন কর্মসংস্থানের পথ। তেমনই ব্যতিক্রমী উদ্যোগে স্বাবলম্বী হয়েছেন সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ ও তাড়াশ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা পুল্লাহ যৌতুক মোড় গ্রামের পরিমল চন্দ্র উরাও (৪৫)। খড় কাটার মেশিনে গবাদিপশুর উপযোগী গোখাদ্য তৈরি করেই চলছে তাঁর সংসার।

প্রতিদিন খড়, মেশিন আর ক্রেতাদের ব্যস্ততায় কাটে পরিমলের সময়। সাধারণত কৃষকের কাছে খড় ধান কাটার পর পাওয়া একটি কৃষিপণ্য হলেও তাঁর কাছে সেটিই জীবিকা নির্বাহের অন্যতম অবলম্বন। প্রায় পাঁচ-সাত বছর ধরে এ কাজ করছেন তিনি। প্রতিদিন খরচ বাদে আয় করছেন ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা।

পরিমল চন্দ্র উরাও স্থানীয় বাসিন্দা নিতাই চন্দ্র উরাওয়ের ছেলে। তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভালোভাবে বেঁচে থাকার প্রত্যাশায় নিজ উদ্যোগে শুরু করেন খড় কাটার কাজ।

পরিমল জানান, একদিন নাটোরে গিয়ে খড় কাটার এ পদ্ধতি দেখে তাঁর ভালো লাগে। সেখান থেকে মেশিন কিনে প্রথমে নিজের বাড়ির প্রয়োজনে খড় কাটতে শুরু করেন। পরে স্থানীয়ভাবে চাহিদা বাড়তে থাকায় বাণিজ্যিকভাবে কাজ শুরু করেন। বর্তমানে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ খড় নিয়ে আসেন। প্রতিদিন প্রায় এক থেকে দুই মণ খড় কাটেন তিনি।

তিনি বলেন, আগে প্রতি কেজি খড় ৩০ থেকে ৩৫ টাকা দিয়ে কিনতে হতো। এখন নিজেরাই খড় কিনে এনে তাঁর মেশিনে প্রতি কেজি ১০ টাকা খরচে কাটতে পারেন। এতে ক্রেতাদের খরচ কমছে। ধান কাটার মৌসুমে কাজের চাপ অনেক বেড়ে যায়। সেই সময় দিনে ৪ থেকে ৫ মন পর্ষন্ত কেটে থাকি।তবে বর্তমানে ভরা মৌসুম না হওয়ায় খড়ের সরবরাহ ও কাজ কিছুটা কম।

সরেজমিনে দেখা যায়, খড় কাটানোর জন্য মেশিনের সামনে কয়েকজন ক্রেতা সিরিয়াল দিয়ে অপেক্ষা করছেন। আবদুর রউফ, তৈয়ব আলী শেখ, আবদুল বারী ও সুনিতা রানীসহ স্থানীয় কয়েকজন পাঁচ থেকে ১০ কেজি কিংবা তারও বেশি খড় নিয়ে এসেছেন। তাঁদের ভাষ্য, আগে বাজার থেকে ৩০-৩৫ টাকা কেজি দরে খড় কিনতে হতো। এখন নিজেদের সংগ্রহ করা খড় কম খরচে কেটে গবাদিপশু ও ছাগলের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করতে পারছেন। এতে তাঁদের খরচও সাশ্রয় হচ্ছে।

স্থানীয় বাজারের দোকানদার আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, আগে বিভিন্ন জায়গা থেকে খড় কেটে আনতে হতো। পরিমলের মেশিন চালু হওয়ার পর নিজেরাই খড় কিনে এনে প্রতি কেজি ১০ টাকা দিয়ে কেটে নিচ্ছেন। পরে বাজারে বিক্রি করেও লাভ হচ্ছে। বিশেষ করে ছাগল পালনকারী খামারিদের মধ্যে এ খড়ের চাহিদা বেশি।

একটি সাধারণ উদ্যোগ যে নিজের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অন্যদেরও আর্থিকভাবে উপকৃত করতে পারে, পরিমল চন্দ্র উরাওয়ের এই উদ্যোগ তারই উদাহরণ। কঠোর পরিশ্রম ও নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি শুধু সংসার চালাচ্ছেন না, স্থানীয় গবাদিপশু পালনকারীদের জন্যও তৈরি করেছেন সাশ্রয়ী গোখাদ্যের সুযোগ।

সম্পর্কিত সংবাদ

এই বিভাগের আরও সংবাদ