শিরোনাম
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রীপ্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় ছাত্রলীগ নেতাবাংলাদেশকে অভিবাসন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে হবে : স্পিকার‎ব্রাহ্মণপাড়ায় আলিম পরীক্ষায় উপজেলায় প্রথম স্থান অর্জন মহালক্ষীপাড়া ফাজিল মাদ্রাসারযশোরে নানা আয়োজনে তরিকুল ইসলামের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী পালিতসচিবালয়ে প্রবেশ ও অবস্থানকালে আইডি কার্ড দৃশ্যমান রাখার নির্দেশআগারগাঁওয়ে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ : কুশপুত্তলিকা দাহশ্রমিক আন্দোলনে উত্তপ্ত গাজীপুররিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় আরও এক ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুচিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারিন্যায্য মজুরি নির্ধারণে একমত তিনপক্ষ : শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বানজামায়াত নেতা আখতারুজ্জামানের ছেলেকে ছুরিকাঘাত

ন্যায্য মজুরি নির্ধারণে একমত তিনপক্ষ : শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান

প্রকাশ:
পড়তে সময় লাগবে ৩ মিনিট

বুধবার (০৪ নভেম্বর) সচিবালয়ে শ্রম মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে শ্রমিক, মালিক ও সরকারের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

বৈঠকে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের চলমান অসন্তোষের মধ্যে নতুন মজুরি নির্ধারণে সরকার, মালিক ও শ্রমিকপক্ষের মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে। তিন পক্ষই বলছে, শ্রমিকদের জন্য ন্যায্য ও যৌক্তিক মজুরি নির্ধারণে নতুন মজুরি বোর্ডের ওপর তাদের আস্থা রয়েছে।

ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি ঘোষণা এবং আগামী জানুয়ারি থেকে তা কার্যকরের প্রত্যাশা করছেন তারা।

মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলার সময় কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রাখা বা শিল্পের ক্ষতি হয়, এমন কোনো কর্মসূচি চান না তিন পক্ষের প্রতিনিধিরা।

শ্রমিকদের বৃহস্পতিবার থেকে কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। একইসঙ্গে বন্ধ কারখানা খুলে উৎপাদন স্বাভাবিক করতে মালিকদেরও তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, মজুরি বোর্ডের ওপর সরকারের পূর্ণাঙ্গ আস্থা রয়েছে। বোর্ডের সদস্যরা শ্রমিক ও মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে গ্রহণযোগ্য, যৌক্তিক ও ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ করবেন। নভেম্বর ও ডিসেম্বরের মধ্যে আলোচনা শেষ করে ডিসেম্বরের ভেতরেই নতুন নিম্নতম মজুরি ঘোষণা করা হবে বলে বোর্ড জানিয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, আগে পাঁচ বছর অন্তর মজুরি বোর্ড গঠন করা হলেও এবার তিন বছর অন্তর নতুন বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ড গঠনের পর দ্রুততম সময়ে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিতীয় সভাও চার দিনের মাথায় আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি সরকারের দ্রুত পদক্ষেপেরই প্রতিফলন।

তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, এতে শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা হবে, শিল্পের স্বার্থ রক্ষা হবে এবং বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা হবে।

পোশাকশিল্পের স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, শ্রমিকদের ত্যাগ ও সংগ্রামের ওপর ভিত্তি করেই ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ স্লোগান বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। তাই এ শিল্পকে এগিয়ে নিতে শ্রমিক, মালিক ও সরকারকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে।

শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বৈঠকে তিন পক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যে যে আন্তরিকতা ও সহযোগিতার মনোভাব দেখা গেছে, তা কারখানাগুলোতেও বজায় থাকা প্রয়োজন। বৃহস্পতিবার থেকে শ্রমিকেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কাজে ফিরবেন বলে সরকার প্রত্যাশা করে। তবে মজুরি বোর্ডের সঙ্গে সংলাপ, পরামর্শ ও আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

পোশাকশিল্পে অস্থিতিশীলতা তৈরির অপচেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ শ্রমিকদের মধ্যে কিছু বহিরাগত ঢুকে উসকানি দিচ্ছেন এবং উত্তেজনা সৃষ্টি করছেন। বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটছে। এতে সাধারণ শ্রমিকদের রক্ত ঝরছে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের জন্য ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। চার দিনের মাথায় আবারও সভা হবে। অতীতে কোনো দাবি নিষ্পত্তিতে তিন-চার বছর সময় লাগলেও বর্তমান সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে।

শ্রমিকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, আপনারা কলকারখানায় কালকে ফিরে যান। আপনাদের সমস্ত দাবি সরকারের পক্ষ থেকে উত্থাপন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বোর্ড বসেছে, বোর্ডে আলোচনা হবে। আলোচনার ভিত্তিতে সমস্যার সমাধান হবে, ইনশাআল্লাহ।

মন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের দাবি জানানোর নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। শ্রমিক নেতাদের মাধ্যমে অথবা মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে দাবি জানাতে হবে। কোনো ধরনের আবেদন বা আলোচনা ছাড়াই রাস্তাঘাট অবরোধ করার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

অন্যদিকে যেসব মালিক কারখানা বন্ধ রেখেছেন, তাদের কারখানা খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান শ্রমমন্ত্রী। তিনি বলেন, শ্রমিক নেতাদেরও নিজ নিজ কারখানায় গিয়ে শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। শ্রমিকদের নিরাপত্তাসহ সার্বিক সহযোগিতা দেবে সরকার।

সম্পর্কিত সংবাদ

এই বিভাগের আরও সংবাদ